প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির অবশিষ্ট অংশে নতুন সামরিক হামলার সম্ভাবনা সম্পর্কে কথা বলেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির অবশিষ্ট স্থাপনাগুলোতে মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে হামলা চালাতে সক্ষম।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে স্থানীয় সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এই দাবি করেন। খবরটি প্রকাশ করেছে জেরুজালেম পোস্ট।
ট্রাম্প বলেন, ইরানের এমন ‘এক বা দুটি স্থাপনা’ রয়েছে, যেগুলোতে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এর মধ্যে পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনও অন্তর্ভুক্ত। তিনি উল্লেখ করেন, "আমরা মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে এটি করতে পারি। এ জন্য আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে এবং খুব দ্রুত তা বাস্তবায়ন করতে পারি।"
ইরানের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, তারা একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চায়। তিনি বলেন, "এখন কী হয়, তা দেখা যাবে। সবকিছু ভালোভাবেই এগোচ্ছে, তবে তাদের আসলে বিশ্বাস করা যায় না। তারা চুক্তিতে পৌঁছায়, আবার সেখান থেকে সরে আসে। তারা চুক্তি করতে চায়, এখন দেখা যাক শেষ পর্যন্ত তারা তাতে স্বাক্ষর করে কি না।"
এ ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগে, ট্রাম্প ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে নতুন হামলা শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এর আগে, ট্রাম্প সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। এ বৈঠকে সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন উপস্থিত ছিলেন।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে যুদ্ধের আশঙ্কা কমে এসেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহে পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম বাড়িয়েছে। একই সময়ে, ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলার ঝুঁকিতে থাকা ঘাঁটিগুলো থেকে কিছু সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এ পরিস্থিতির রাজনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। আগামী মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনী প্রচারের শেষ পর্যায়ে রয়েছেন ট্রাম্প।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের আশঙ্কা এবং যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি রিপাবলিকান পার্টির জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচনের শেষ সময়ে নিজের দলের প্রতি জনসমর্থন বাড়াতে চাইছেন ট্রাম্প।
এ কারণে, বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর সময় পিছিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে আলোচনার সময় দীর্ঘায়িত করছে ইরানও।
প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের ধারণা, সেন্টকম ও ইসরাইল ইরানে হামলার প্রস্তুতি নিলেও নির্বাচনের আগে হোয়াইট হাউস সামরিক অভিযানের নির্দেশ দেবে না। তবে, ইরান আকস্মিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে কোনো তথ্য পাওয়া গেলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।
ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রস্তুতি নিয়ে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বিভাগও স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, হোয়াইট হাউস ইরানকে আলোচনায় ফেরার আরেকটি সুযোগ দিতে চাইছে।
প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা মনে করছেন, সপ্তাহের পর সপ্তাহ অবনতিশীল অর্থনৈতিক সংকটে থাকা ইরান এমন কোনো চুক্তিতে স্বাক্ষর করবে না, যার মাধ্যমে তাদের পুরো পারমাণবিক কর্মসূচি পরিত্যাগ করতে হবে। বিশেষ করে, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বন্ধ করার বিষয়ে তেহরান সম্মত হবে না। এসব ক্ষেপণাস্ত্র বর্তমানে ইউরোপের জন্যও হুমকি হয়ে উঠেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন