প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নওগাঁ, ১৪ অক্টোব, ২০২৬ : শীতকালীন সবজির উৎপাদনের সাথে শীতের আগমনের একটি নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান। এই মওসুমে শীতকালীন সবজিতে মানুষের শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় নানা পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়। এজন্য শীতকালীন সবজির প্রয়োজনীয়তা এবং উপযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নওগাঁ জেলা শহরের বিভিন্ন বাজার এবং গ্রামাঞ্চলের হাটগুলোতে বর্তমানে পর্যাপ্ত পরিমাণ শাক সবজি পাওয়া যাচ্ছে। এসব শাক সবজির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ফুলকপি, পাতা কপি, পটল, পালং শাক, লাল শাক, পুঁই শাক, করলা, বেগুন, সীম, লাউ, মূলা, ঢেড়স, শশা, চাল কুমড়া, মিষ্টি কুমড়া ইত্যাদি। উৎপাদিত এসব শাক সবজি কৃষকদের কাছ থেকে ৪ হাত বদল হয়ে ভোক্তাদের কাছে পৌঁছায়।
নওগাঁ সদর উপজেলার কির্ত্তীপুর ইউনিয়নের খামারআতিথা গ্রাম শাক সবজি উৎপাদনের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য এলাকা হিসেবে পরিচিত।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নওগাঁ সদর উপজেলায় আগাম শীতকালীন শাক সবজি চাষের পরিমাণ ৫৪০ হেক্টর, রানীনগর উপজেলায় ১৫ হেক্টর, আত্রাই উপজেলায় ৩৫ হেক্টর, বদলগাছী উপজেলায় ৩৮০ হেক্টর, মহাদেবপুর উপজেলায় ৬৭০ হেক্টর, পত্নীতলা উপজেলায় ৩১০ হেক্টর, ধামইরহাট উপজেলায় ২৫০ হেক্টর, সাপাহার উপজেলায় ১৩০ হেক্টর, পোরশা উপজেলায় ১২০ হেক্টর, মান্দা উপজেলায় ৬০০ হেক্টর এবং নিয়ামতপুর উপজেলায় ৩০৫ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি চাষ হচ্ছে।
সদর উপজেলার খামারআতিথা গ্রামের কৃষক বাবুল হোসেন বাসস'কে জানান, তিনি তার ১২ কাঠা জমিতে এবারে আগাম জাতের ফুলকপি চাষ করেছেন। তিনি ২ হাজার ৫শ’টি কপির চারা রোপণ করেন। জমির চাষ, চারা তৈরি, পরিচর্যা, কীটনাশক, সার, ফসফেট, পটাশ ইত্যাদির জন্য মোট খরচ হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার টাকা। গড়ে প্রতিটি কপির ওজন ৫০০ গ্রাম বা আধা কেজি। সেই হিসেবে ২৫শ’ পিচ কপির মোট ওজন ১২শ’ ৫০ কেজি। প্রতি কেজি কপি পাইকারি মূল্য ৫০ টাকা হিসেবে মোট বিক্রি মূল্য ৬২ হাজার ৫শ’ টাকা। সব খরচ বাদ দিয়ে তার নীট লাভ ৪৭ হাজার ৫শ’ টাকা।
বদলগাছী উপজেলার বৈকুণ্ঠপুর গ্রামের কৃষক শাহিনুল ইসলাম জানান, তিনি এক বিঘা জমিতে পটল চাষ করেছেন। তিনি বাসসকে বলেন, এক বিঘা জমিতে চাষ করতে জমি তৈরি, চারা, বাঁশের আড়া, সার, কীটনাশক, পরিচর্যা ইত্যাদির জন্য মোট খরচ হয়েছে কমপক্ষে ৫০ হাজার টাকা। চৈত্র মাসে তিনি জমিতে চারা রোপণ করেন এবং জৈষ্ঠ মাস থেকে পটল বাজারে বিক্রি শুরু করেন। এটি কার্তিক মাস পর্যন্ত চলবে। প্রতি সপ্তাহে জমি থেকে প্রায় ১০ মণ হারে মাসে ৪০ মণ পটল তুলেন। সেই হিসেবে ৬ মাসে তার মোট পটল উৎপাদনের প্রত্যাশা ২৪০ মণ। বর্তমানে পাইকারিভাবে প্রতি মণ পটলের বিক্রি মূল্য ৯শ’ টাকা, যা ২ লাখ টাকার ওপরে।
পাইকারি ব্যবসায়ী আজিজুল জানান, তিনি সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ১১৫ টাকা দরে সীম কিনে এনে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে ১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন।
নওগাঁ বাজারের খুচরা শাক সবজি ব্যবসায়ী মো. শামসুল আলম এবং হাসান আলী বলেন, তারা নওগাঁর পাইকারি বাজার থেকে সব ধরনের শাক সবজি ক্রয় করেন এবং ভোক্তা পর্যায়ে ১০ টাকা লাভ রেখে খুচরা বিক্রি করে থাকেন।
নওগাঁ জেলা সদরের বড় বাজারে পাইকারি সবজি ব্যবসায়ী বরাত আলী বাসসকে জানান, তিনি বা তার মত ব্যবসায়ীরা গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন হাট এবং কৃষকদের থেকে সরাসরি বিভিন্ন শাক সবজি কিনে এনে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেন। খুচরা বিক্রেতারা পরে ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছে দেন।
তিনি বলেন, কৃষকদের কাছ থেকে ৯শ’ টাকা মণ হিসেবে পটল কিনে আনেন এবং খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে মণ প্রতি ১শ’ টাকা লাভ করে ১ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। এভাবে তারা সবগুলো শাক সবজি মণ প্রতি ১শ’ থেকে ১৫০ টাকা মুনাফা রেখে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেন।
বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ফুলকপি ৮০ টাকা কেজি, পালং শাক ১০০ টাকা, পটল ৪০ টাকা, লাল শাক ৪০ টাকা, পুঁই শাক ৪০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, বেগুন ১০০ টাকা, সীম ১৫০ টাকা, লাউ প্রতিটি ৩০/৪০ টাকা, ঢেড়স ৬০ টাকা, মূলা ৫০ টাকা কেজি, শশা ৬০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
সুলতানপুর থেকে নওগাঁ বড় বাজারে বাজার করতে আসা আব্দুর রশিদ বাসসকে জানান, বাজারে পর্যাপ্ত শীতের শাক সবজি উঠেছে এবং দাম ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে। গত মওসুমের তুলনায় এ বছর সব কিছুর দাম কিছুটা কম রয়েছে।
নওগাঁ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম বাসস'কে বলেন, কৃষকরা যে আগাম শাক সবজি চাষ করেন, তারা অধিক মূল্য পাওয়ার আশায় কাজ করেন। এ ক্ষেত্রে কৃষকদের পরিশ্রম কিছুটা বেশি হয়। বর্তমানে বাজারে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত শাক সবজির যে মূল্য পাচ্ছেন, তাতে তারা সন্তুষ্ট। ভোক্তারাও বর্তমান মূল্যে খুশি রয়েছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নওগাঁর উপ-পরিচালক মো. মনজুর রহমান বাসসকে জানান, নওগাঁ জেলার জমি প্রাকৃতিকভাবে অত্যন্ত উর্বর। যে কোন ফসলের মত শাক সবজি উৎপাদনও ভালো হয়। আগাম শাক সবজি চাষ করে জেলার কৃষকরা ভালো দাম পাচ্ছেন।
তিনি জানান, এ বছর জেলায় মোট ৩ হাজার ৩শ’ ৫৫ হেক্টর জমিতে আগাম শীতকালীন শাক সবজি চাষ হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন