প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ : যুক্তরাজ্য বুধবার একটি সতর্কতামূলক বাজেট ঘোষণা করার পরিকল্পনা করছে, যা মূলত মূল্যস্ফীতি ও ঋণ গ্রহণের ব্যয় বৃদ্ধির চাপের কারণে। নতুন সরকারের জন্য এটি একটি চ্যালেঞ্জ, কারণ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বৃদ্ধি এবং পরিবারের জীবনযাত্রার ব্যয় হ্রাসের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি সীমিত আর্থিক সক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের প্রভাবে মূল্যস্ফীতি ও ঋণ গ্রহণের ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারের ঋণের বোঝা বাড়ছে। এর ফলে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের নতুন প্রশাসনের জন্য বাজেট প্রণয়ন একটি কঠিন কাজ হয়ে উঠতে পারে।
লন্ডন থেকে এএফপি জানায়, অর্থমন্ত্রী জন হিলি বাজেট ঘোষণার আগের দিন একটি বিবৃতিতে বলেন, “ব্রিটেনের ওপর আঘাত হানা এসব আকস্মিক ধাক্কা আমরা ঠেকাতে পারি না। তবে যখন এগুলো আসে, তখন ব্রিটেনকে আরও সহনশীল করে তুলতে পারি।”
লেবার সরকারের বাজেট সম্পর্কে তিনি উল্লেখ করেন, “এই বাজেটের লক্ষ্য হলো কঠিন এ সময় পার করে আসা।” এতে পরিবারগুলো কিছুটা স্বস্তির সুযোগ পাবে এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো পাবে ‘লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা’।
জুলাইয়ে কিয়ার স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়া বার্নহাম সোমবার বলেন, বার্ষিক কর ও ব্যয় পরিকল্পনায় তাঁর পূর্বসূরির ঘোষিত প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ কর্মসূচির অর্থায়ন কীভাবে করা হবে, তা তুলে ধরা হবে।
তবে ২০৩৫ সালের মধ্যে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ দশমিক ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের ন্যাটোর লক্ষ্য কীভাবে পূরণ করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা হিলি আগামী বছর পর্যন্ত পিছিয়ে দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্টারমারের সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী থাকাকালে হিলি পদত্যাগ করেছিলেন। সে সময় তিনি অভিযোগ করেছিলেন, অর্থ মন্ত্রণালয় সামরিক খাতে পর্যাপ্ত অর্থ দিচ্ছে না।
লেবার পার্টি আয়কর ও মূলধনি মুনাফার ওপর কর বাড়ানোর পরিকল্পনা নাকচ করে দেওয়ায় বাজেটের হিসাব মেলাতে সরকারি ব্যয় কমানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
সীমিত পরিসরের বাজেট
অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী হিলি তাঁর পূর্বসূরি র্যাচেল রিভসের নির্ধারিত আর্থিক বিধি মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ওই বিধি অনুযায়ী, সরকারের দৈনন্দিন ব্যয় কর থেকে প্রাপ্ত রাজস্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।
জ্বালানির বিল বেড়ে যাওয়ায় পরিবারগুলোকে সহায়তা দিতে বিভিন্ন ব্যয় কর্মসূচির অর্থায়নে ব্যাংকগুলোর ওপর আরোপিত অতিরিক্ত কর ব্যবহার করতে পারেন অর্থমন্ত্রী।
অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের যুক্তরাজ্যবিষয়ক অর্থনীতিবিদ আলেকজান্ডার হার্ভে বলেন, “২০২৭ সালে আরও বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের আগে এই বাজেট মূলত সরকারকে সাময়িকভাবে সময় পার করতে সহায়তা করবে।”
তিনি আরও বলেন, “জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর পাশাপাশি অন্যান্য তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। এসব ব্যবস্থার পরিসরও হবে সীমিত।”
ইতোমধ্যে তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল কিছু সহায়তা ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০০টির বেশি আমদানি করা পণ্যের ওপর শুল্ক কমানো এবং অভিভাবকদের বেতনসহ ছুটির সুবিধা সম্প্রসারণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন বাজেটে জ্বালানির ওপর শুল্ক স্থগিত রাখার মেয়াদ বাড়ানো, দরিদ্রতম পরিবারগুলোর জন্য আরও লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা এবং ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ থাকতে পারে।
পাম্পে ডিজেলের দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় সেপ্টেম্বরে যুক্তরাজ্যের বার্ষিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়ায়, যা প্রায় এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
গত সপ্তাহে সরকার উত্তর সাগরের একটি গ্যাসক্ষেত্রে খননকাজের অনুমোদন দিয়েছে। সরকারের দাবি, এ পদক্ষেপের লক্ষ্য জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা, জ্বালানির বিল কমানো নয়।
ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যয় কমাতে ‘অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্রের কাজ’ হ্রাসের ব্যবস্থাও বাজেটে থাকবে বলে জানিয়েছেন হিলি।
এদিকে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) কারণে সৃষ্ট সাইবার ও জৈবিক ঝুঁকি নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় গত সপ্তাহান্তে অর্থ মন্ত্রণালয় এআই নিরাপত্তায় বিনিয়োগের একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
ঋণ গ্রহণের ব্যয় বাড়ছে
বাজেটের সঙ্গে প্রকাশিত হালনাগাদ হিসাব অনুযায়ী, সরকারের ২৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন পাউন্ড বা ৩১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। ঋণ গ্রহণের ব্যয় বৃদ্ধির ফলে সরকারের ঋণ পরিশোধের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের স্বাধীন আর্থিক পর্যবেক্ষক সংস্থা অফিস ফর বাজেট রেসপনসিবিলিটি বুধবার দেশটির প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে সর্বশেষ পূর্বাভাসও প্রকাশ করবে।
মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনের যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ছে। এর প্রভাবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বিভিন্ন দেশের সরকারি বন্ডের মুনাফার হার কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
মূল্যস্ফীতি বাড়তে থাকায় আগামী মাসে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের নীতিনির্ধারণী সুদের হার বাড়ানোর প্রত্যাশা আরও জোরালো হয়েছে। এতে ঋণগ্রহীতাদের, বিশেষ করে গৃহঋণ নেওয়া ব্রিটিশদের ওপর আর্থিক চাপ আরও বাড়তে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন