প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সম্প্রতি তহবিল সংক্রান্ত ধারাবাহিক কেলেঙ্কারির সর্বশেষ ঘটনার প্রেক্ষাপটে ব্রিটেনের কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক দল ‘রিফর্ম ইউকে’-র দুই কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) একটি অনুসন্ধানী টেলিভিশন প্রামাণ্যচিত্র প্রচারের পর দলের কর্মকর্তা জেমস অর এবং ড্যান জুকস পদত্যাগের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।
‘চ্যানেল ৪ নিউজ’-এ সম্প্রচারিত একটি প্রতিবেদনের পর দলটি জানিয়েছে, তারা দলের নীতি-নির্ধারণী বিভাগের প্রধান জেমস অর এবং ফারাজের জ্যেষ্ঠ সহযোগী ড্যান জুকসের কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে যে, ‘রিফর্ম ইউকে’-র কর্মকর্তারা একটি বিদেশি কোম্পানির মাধ্যমে জনমত জরিপের (পোলিং) খরচ মেটানোর ব্যবস্থা করে রাজনৈতিক অনুদান সংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন।
প্রামাণ্যচিত্রে দেখা যায়, জুকস একজন ছদ্মবেশী সাংবাদিককে পরামর্শ দিচ্ছেন কীভাবে নির্বাচনী আইন এড়িয়ে বিদেশ থেকে দলের তহবিলে অনুদান দেওয়া যায়। টেবিলে বসে থাকা দলের নেতা নাইজেল ফারাজ দাবি করেন, সবকিছু স্বচ্ছ ও আইনসম্মত। সাংবাদিক তখন তাকে জানান, তিনি বেশ কিছুদিন ধরে অর-এর সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। দলের বার্ষিক সম্মেলনের ঠিক আগে ফারাজের দীর্ঘদিনের সহযোগী জুকস এবং রিফর্মের নীতি-নির্ধারণী প্রধান অর-এর পদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে।
সম্প্রতি ব্যক্তিগতভাবে এবং রিফর্ম দলের জন্য অর্থ গ্রহণ নিয়ে নানা প্রশ্নের মুখে পড়া ফারাজ এক রেডিও সাক্ষাৎকারে জোর দিয়ে বলেন, দল কোনো আইন ভঙ্গ করেনি। তবে তিনি আরও বলেন, ফাঁদে ফেলে রেকর্ড করা কথোপকথন দেখতে ভালো লাগে না, এবং সে কারণেই তারা তদন্ত শুরু করেছেন।
লন্ডনের মেট পুলিশ বিভাগের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা রাজনৈতিক দলের অনুদান এবং জনমত জরিপ সংক্রান্ত পলিটিক্যাল পার্টিজ, ইলেকশনস অ্যান্ড রেফারেন্ডামস অ্যাক্ট ২০০০ লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের বিষয়ে অবগত আছেন। ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি এবং বিরোধী লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা জানিয়েছেন, এই তথ্য প্রকাশের পর তারা পুলিশের কাছে রিফর্মের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। যদিও অভিবাসন বিরোধী দলটি শুরুতে বিষয়টিকে নিছক প্রতারণা বা ভুয়া খবর বলে উড়িয়ে দিয়েছিল।
ফারাজ পাল্টা জবাবে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে পিয়ারেজ (উচ্চকক্ষ বা হাউস অফ লর্ডসের সদস্যপদ) বিক্রির অভিযোগ তোলেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক অর্থায়নের জগতে দশকের পর দশক ধরে নানা ধরনের ভুল কাজ হয়ে আসছে। দল হিসেবে তারা কোনো ভুল করেনি। তাদের কয়েকজন ঠিকাদার এমন কিছু কথা বলেছেন যা বলা উচিত ছিল না।
রিফর্মকে ঘিরে অর্থায়ন সংক্রান্ত সাম্প্রতিক কেলেঙ্কারির মধ্যে ক্রিপ্টোকারেন্সি বিলিয়নেয়ার ক্রিস্টোফার হারবোর্নের কাছ থেকে ফারাজের পাওয়া ৫০ লাখ পাউন্ডের (৬৭ লাখ ডলার) অঘোষিত ব্যক্তিগত উপহারের বিষয়টিই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে। হারবোর্নের দেওয়া অনুদান রিফর্মকে আড়াই কোটি পাউন্ডেরও (৩ কোটি ৩৬ লাখ ডলার) বেশি অর্থ দিয়েছে। এ বিষয়ে ফৌজদারি ও সংসদীয় উভয় ধরনের তদন্ত চলমান রয়েছে। হারবোর্নের ক্রিপ্টোকারেন্সি টেথারের ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে, যা মাদক কার্টেল, জালিয়াতি এবং মানব পাচারের সাথে ব্যাপকভাবে জড়িত।
এই ঝড়ের মধ্যে ফারাজ একটি উপনির্বাচনের আহ্বান জানাতে তার সংসদীয় আসন থেকে পদত্যাগ করে আন্তর্জাতিক শিরোনামে আসেন, যেখানে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াইকারী হিসেবে উপস্থাপন করেন। অন্যান্য প্রধান দলগুলো এই পদক্ষেপকে একটি লোকদেখানো কৌশল হিসেবে খারিজ করে দেওয়ায় এবং প্রার্থী দিতে অস্বীকার করায় এই জনতুষ্টিবাদী নেতা সহজেই জয়লাভ করেন। যদিও তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আন্তঃনাক্ষত্রিক মহাকাশ যোদ্ধা কাউন্ট বিনফেসের পাওয়া প্রায় ১০ হাজার ভোট একটি উল্লেখযোগ্য বিরোধিতার ইঙ্গিত দেয়।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, আলজাজিরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন