প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সংঘাতের কারণে বিপর্যস্ত প্রতিবেশী দেশ ইয়েমেনে মানবিক সহায়তা আরও শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে দেশটির হাজ্জাহ গভর্নরেটে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জন্য ২৩২টি সুবিধাসংবলিত আবাসন ইউনিট প্রদান করেছে সউদী আরব।
সউদী ত্রাণ সংস্থা 'কেএসরিলিফ' এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই প্রকল্পের আওতায় রয়েছে সৌরবিদ্যুৎ সুবিধাসহ নির্মিত বাড়ি, একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি মসজিদ এবং শিশুদের জন্য দুটি খেলার মাঠ। স্থানীয় আশ্রয়দাতা কমিউনিটির ১৫০টি পরিবারকেও বাড়তি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা সরবরাহ করা হয়েছে।
সউদী প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) বৃহস্পতিবারের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে মোট ১,৯৯৪ জন মানুষ উপকৃত হবে। এটি বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জন্য আরও স্থিতিশীল জীবনযাপনের সুযোগ এবং মৌলিক সেবা পাওয়ার ব্যবস্থা করবে।
প্রতিটি আবাসন ইউনিটে রয়েছে দুটি কক্ষ, দুটি বাথরুম, একটি রান্নাঘর এবং একটি উন্মুক্ত উঠান। আবাসন কমপ্লেক্সের বাসিন্দাদের এবং আশপাশের স্থানীয় জনগণের সুবিধার্থে আনুষঙ্গিক এসব প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করা হয়েছে।
হাজ্জাহর গভর্নর আব্দুলকারিম আল-সুনাইনি সউদী আরব, দেশটির নেতৃত্ব এবং জনগণের অব্যাহত মানবিক সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি মন্তব্য করেন, এই প্রকল্প দীর্ঘদিনের কষ্টের পর বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোকে নতুন করে জীবন গড়ে তোলার সুযোগ এনে দিয়েছে।
আবাসন প্রকল্প হস্তান্তরের পাশাপাশি চলতি সপ্তাহে ইয়েমেনে আরও বেশ কিছু সউদী ত্রাণ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়েছে, যা বাস্তুচ্যুত ও দুর্গত মানুষের প্রতি দেশটির অব্যাহত সমর্থনের বড় প্রমাণ।
লাহাজ গভর্নরেটে জরুরি আশ্রয় কর্মসূচির ৬ষ্ঠ পর্যায় হিসেবে তুবান জেলার সাম্প্রতিক ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বাস্তুচ্যুতদের মধ্যে ৯০টি তাঁবু ও ৯০টি শেল্টার কিট বিতরণ করেছে কেএসরিলিফ। পাশাপাশি সেখানে নিরাপদ খাওয়ার পানি সরবরাহ করা হয়েছে, যা ১,৯১৯ জন বাস্তুচ্যুত মানুষ ও দুঃস্থ পরিবারকে সহায়তা করেছে।
এডেন গভর্নরেটে ১৪টি পয়েন্টের মাধ্যমে বিশুদ্ধ খাওয়ার পানি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং ৩৭টি পরিবারের মধ্যে ৪৫৪টি পানি রাখার পাত্র বিতরণ করা হয়েছে। আল-বুরাইকাহ জেলায় পরিচালিত আলাদা একটি জরুরি পানি প্রকল্পের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ২,৮০০ মানুষকে পানের যোগ্য পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এই উদ্যোগে কংক্রিটের বেদির ওপর ২১টি পানির ট্যাংক স্থাপন, বিতরণ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ এবং ৮০০টি কন্টেইনার বিতরণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পানির গুণমান ও নিরাপত্তা মানদণ্ড নিশ্চিত করতে নিয়মিত ল্যাব পরীক্ষাও করা হচ্ছে।
অসচ্ছল ও বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জন্য নিরাপদ পানি নিশ্চিত করা, দূষিত পানির কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো এবং দুর্যোগ সহ্য করার সক্ষমতা বাড়ানোই এসব উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
সর্বশেষ এই প্রকল্পগুলো ইয়েমেনে সউদী আরবের টানা মানবিক সহায়তার ধারাবাহিকতা তুলে ধরে। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাত, অর্থনৈতিক বিপর্যয় এবং মৌলিক সেবার ঘাটতির কারণে দেশটির লাখ লাখ মানুষ এখন ত্রাণের ওপর নির্ভরশীল।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সরকার ও ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যবর্তী সংঘাতের ফলে বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং দেশের অবকাঠামো ও অর্থনীতি চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জাতিসংঘের ২০২৬ সালের মানবিক চাহিদা ও সহায়তা পরিকল্পনা অনুসারে, ইয়েমেনে আনুমানিক ২ কোটি ২৩ লাখ মানুষের মানবিক সহায়তা ও সুরক্ষা প্রয়োজন। এর মধ্যে প্রায় ৫২ লাখ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষ রয়েছে। এ ছাড়া ১ কোটি ৮৩ লাখের বেশি মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত কেএসরিলিফ-এর মাধ্যমে ইয়েমেনে সর্বোচ্চ পরিমাণ ত্রাণ দেওয়া দেশগুলোর মধ্যে সউদী আরব অন্যতম। জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবতাবাদী সংস্থার সাথে মিলে প্রতিষ্ঠানটি খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, আশ্রয়, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন, শিক্ষা, পুষ্টি ও সুরক্ষাসহ নানা খাতে কাজ করে যাচ্ছে।
এর আগেও সংস্থাটির অধীনে ইয়েমেনের বিভিন্ন প্রান্তে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ, ম্যালেরিয়া প্রতিরোধ কর্মসূচি পরিচালনা এবং শরণার্থী ও সংকটাপন্ন মানুষের মাঝে ত্রাণ পৌঁছানোর কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
তৎক্ষণাৎ জরুরি ত্রাণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, মৌলিক সেবা পুনর্বহাল এবং ক্ষতিগ্রস্তদের টেকসই পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যেই সউদী আরব এসব আবাসন ও পানি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন