প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মন্তব্য করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি আস্থা তৈরি এবং ন্যায়সংগত সমাধানে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে আন্তরিকতার প্রমাণ দেয়, তাহলে ইরান কূটনীতিকে আরেকবার সুযোগ দিতে প্রস্তুত রয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবার সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তা দেশটির জন্য আরো বড় কৌশলগত ব্যর্থতার কারণ হবে।
আরাগচি তার এক্স অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টে উল্লেখ করেন যে, তেহরান এখনও কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রেখেছে। তিনি বলেন, প্রকৃত আলোচনা-প্রক্রিয়ার পরিবর্তে নতুন করে আগ্রাসন চালানো ইরান মেনে নেবে না।
তিনি লেখেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র আস্থা তৈরি এবং ন্যায়সংগত সমাধানে পৌঁছানোর ব্যাপারে আন্তরিক ইচ্ছার জোরালো প্রমাণ দেখাতে পারে, তাহলে ইরান কূটনীতিকে আরেকটি সুযোগ দিতে প্রস্তুত। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র যদি কূটনীতির পরিবর্তে যুদ্ধ বেছে নেয়, তাহলে তা নিশ্চিতভাবেই আরো বড় কৌশলগত ব্যর্থতার কারণ হবে।
আরাগচি তার পোস্টের সঙ্গে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস-এ প্রকাশিত নিজের সর্বশেষ মতামতধর্মী নিবন্ধের একটি লিংকও যুক্ত করেছেন। ওই নিবন্ধে তিনি সংঘাত নিয়ে ইরানের অবস্থান, আলোচনা শুরুর সম্ভাবনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সামরিক হুমকির পরিণতি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন।
বুধবার প্রকাশিত ওই মতামতধর্মী নিবন্ধে আরাগচি মর্যাদাপূর্ণ ও দীর্ঘস্থায়ী কূটনৈতিক সমাধানে পৌঁছানোর বিষয়ে ইরানের প্রস্তুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা রক্ষায় ইরান দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
তিনি যুক্তি দেন, আলোচনার সময় বারবার সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে ওয়াশিংটন আস্থার পরিবেশ নষ্ট করেছে। সংঘাতের অবসান এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের প্রস্তাবিত সাত দিনের পরিকল্পনা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র অর্থবহ সমঝোতায় পৌঁছানোর বিষয়ে সামান্যই আগ্রহ দেখিয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সংঘাতের কারণে মার্কিন পরিবারগুলোর ওপর পড়া অর্থনৈতিক ব্যয়ের কথাও উল্লেখ করেন। তার মতে, সামরিক অভিযান চালানোর পরিণতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে পারেনি।
আরাগচি বলেন, হরমুজ প্রণালির পাশে ইরানের কৌশলগত অবস্থান আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের ওপর দেশটিকে উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিস্তারের সুযোগ দিয়েছে। তিনি বলেন, এই জলপথে ইরান তার ঐতিহাসিক ভূমিকা বজায় রাখবে।
আরাগচি আরো স্পষ্ট করেছেন, ইরান কূটনীতির জন্য প্রস্তুত থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করলে ওয়াশিংটনকে আরো বড় কৌশলগত পরাজয়ের মুখে পড়তে হবে।
সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন