প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) দুই দিনের ব্যবধানে ফের র্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠে এসেছে। এবার ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের এক ছাত্রীকে র্যাগিং, মানসিকভাবে হেনস্তা ও অপমানজনক আচরণের শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে একই বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রীর অভিভাবক নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নবীন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
রবিবার (১১ অক্টোবর) ভুক্তভোগী ছাত্রী তাসনীম ফাতিনের মা রোকশানা পারভিন বিভাগের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
অভিযোগপত্রে অভিযুক্ত হিসেবে বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ছয় শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ইতমিনান, আসফাকুল, অভি, লাবিব, সাইমা ও হিমুর নাম রয়েছে।
অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার (৭ অক্টোবর) বিভাগের একটি শ্রেণিকক্ষে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের ডেকে নিয়ে র্যাগিং করা হয়। এ সময় তাসনীমের চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয় এবং তাকে মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয়। এর ফলে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং পরে বাড়ি ফিরে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীরা সিনিয়রদের মাধ্যমে নিয়মিত র্যাগিং ও অপমানজনক আচরণের শিকার হচ্ছেন। তাদের কটূক্তি করা, জোর করে বিভিন্ন ধরনের হাসি দিতে বলা, পাঁচ সেকেন্ডের মধ্যে পরিচয় দিতে বাধ্য করা এবং সিনিয়র শিক্ষার্থীদের সালাম না দিলে বকাঝকা করার অভিযোগও আনা হয়েছে।
এছাড়া, অন্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলা কিংবা তাদের আয়োজিত কোনো অনুষ্ঠানে অংশ নিলেও নবীনদের বকাঝকা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি সিনিয়র শিক্ষার্থীদের ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানো ও মেসেজ দিতেও নবীনদের চাপ দেওয়া হয় বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী।
অভিযোগে এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই, দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নবীন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। অভিযোগ জানানোর কারণে কোনো শিক্ষার্থী যাতে প্রতিশোধমূলক আচরণ বা পুনরায় হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করারও অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। আমার কাছে কিছুটা সন্দেহজনক মনে হচ্ছে। তবে এটি সঠিক নাকি ভুল, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছি না। বিষয়টি আরও ভালোভাবে যাচাই করতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন গ্রুপের সঙ্গে আলোচনা করে প্রকৃত ঘটনা জানার চেষ্টা করছি। আমি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছি। আমার কাছে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার মতো মনে হচ্ছে। তবে যাচাই-বাছাই ছাড়া কাউকে অভিযুক্ত করা ঠিক হবে না।’
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের আবাসিক হল ‘গণতন্ত্র হলে’ ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইসিই) বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রীদের ডেকে নিয়ে র্যাগিংয়ের অভিযোগ ওঠে একই বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষাবর্ষের এক ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে পাবনা শহরের মোজাহিদ ক্লাব এলাকার এসোর্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন