প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কর্মজীবী নারীদের কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণকে নিশ্চিন্ত করার পাশাপাশি শিশুদের নিরাপদ বিকাশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশের শহর, উপশহর ও জনবহুল এলাকায় আধুনিক মানসম্পন্ন ডে কেয়ার সেন্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ভূমি প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় নবনির্মিত আধুনিক ‘ডে কেয়ার সেন্টার ও ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার’-এর উদ্বোধন এবং ৪৮ ও ৪৯তম বেসিক ভূমি ব্যবস্থাপনা কোর্সের প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, বিশেষ করে শিল্পাঞ্চলগুলোতে শিল্প মালিকদের ডে কেয়ার সেন্টার প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসতে হবে। ব্যক্তিগত উদ্যোগের পাশাপাশি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) মাধ্যমে এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা সম্ভব। শিশুদের প্রারম্ভিক সুরক্ষায় এই সামাজিক উদ্যোগকে দেশব্যাপী জোরদার করতে শিল্প মালিক ও প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলে সরকার প্রয়োজনীয় নীতিগত ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, কর্মজীবী মায়েরা যদি মানসিকভাবে উদ্বেগমুক্ত ও স্বস্তিতে না থাকেন, তবে তাদের কাছ থেকে পূর্ণাঙ্গ সেবা পাওয়া সম্ভব নয়। কর্মজীবী মায়েদের মানসিক স্বস্তি এবং শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে ডে কেয়ার সেন্টার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মিজ্ ফারজানা শারমীন।
ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী দেশব্যাপী কর্মজীবী মায়েদের জন্য ডে কেয়ার সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল। এর অংশ হিসেবে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচির আওতায় আধুনিক এই ডে কেয়ার সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। শিশুদের প্রারম্ভিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জনবহুল এলাকাতেও পর্যায়ক্রমে ডে কেয়ার সেন্টার স্থাপন করা হবে।
প্রশিক্ষণ সমাপ্তকারী কর্মকর্তাদের সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারি দায়িত্ব পালনে জনগণের সেবা নিশ্চিত করাই কর্মকর্তাদের প্রধান কর্তব্য।
ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন মন্তব্য করেন, কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে শিশুদের নিরাপদ পরিবেশে রেখে নারীদের দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিতে সারা দেশে ডে কেয়ার সেন্টারের চাহিদাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে আধুনিক ডে কেয়ার সেন্টারটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এ দেশের প্রকৃত মালিক ১৮ কোটি জনগণ। সরকারি সেবা পাওয়ার মাধ্যমে জনগণ যেন অনুভব করতে পারে যে তারাই রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক—কর্মকর্তাদের সেভাবেই দায়িত্ব পালন করতে হবে।
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মিজ্ ফারজানা শারমীন জানান, কর্মজীবী মায়েদের কর্মদক্ষতা ও সেবার মান অনেকাংশেই নির্ভর করে তাদের সন্তানরা কতটা নিরাপদ পরিবেশে রয়েছে তার ওপর। নবনির্মিত ডে কেয়ার সেন্টারটি প্রশিক্ষণার্থী ও কর্মরত মায়েদের কাজের মান বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
তিনি প্রশিক্ষণ সমাপ্তকারী সহকারী কমিশনারদের (ভূমি) সরকারি সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের পরামর্শ দেন।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচির আওতায় স্থাপিত ডে কেয়ার সেন্টার ও ব্রেস্ট ফিডিং কর্নারে নারী প্রশিক্ষণার্থীরা তাদের সন্তানদের নিরাপদ হেফাজতে রেখে প্রশিক্ষণে অংশ নিতে পারবেন। সেন্টারটিতে অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত আয়ার সার্বক্ষণিক পরিচর্যা, শিশুদের প্রারম্ভিক বিকাশ ও বিনোদনের ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসম্মত ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শিশুবান্ধব পরিবেশ রয়েছে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের সহায়তায় ভূমি মন্ত্রণালয়ের অর্থায়ন ও ব্যবস্থাপনায় ভূমি প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রায় ৭৫০ বর্গফুট জায়গাজুড়ে সেন্টারটি স্থাপন করা হয়েছে। এর কার্যক্রম প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলবে। সরকারি ছুটির দিনে কেন্দ্রটি বন্ধ থাকবে।
উদ্বোধনের পর মন্ত্রী আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে ডে কেয়ার সেন্টার ও ব্রেস্ট ফিডিং কর্নারের বিভিন্ন কক্ষ ঘুরে দেখেন এবং সেবার মান পর্যবেক্ষণ করেন। পরে ৪৮ ও ৪৯তম বেসিক ভূমি ব্যবস্থাপনা কোর্সের প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ। এ সময় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা ও প্রশিক্ষণার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন