প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সভিরিদেঙ্কো পদত্যাগ করেছেন। এটি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির আকস্মিক রাজনৈতিক রদবদলের অংশ। পদত্যাগের মাত্র এক বছরের মাথায় প্রেসিডেন্টের অনুরোধে তিনি এই পদ থেকে সরে দাঁড়ান।
মঙ্গলবার ইউক্রেনের পার্লামেন্ট ৪০ বছর বয়সী এই অর্থনীতিবিদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছে। তবে যুদ্ধকালীন এই পরিস্থিতিতে আকস্মিক সরকার পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে পার্লামেন্টের বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতা অসন্তোষ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা না পাওয়ায় উদ্বিগ্ন।
বিদায়ী ভাষণে সভিরিদেঙ্কো বলেন, এই বছরের প্রতিটি দিনই ছিল কঠিন সিদ্ধান্ত ও নিষ্পত্তিমূলক পদক্ষেপের দাবি। তিনি তার ওপর আস্থা রাখার জন্য সবার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং কাজের ফলাফলের ওপর নিজের বিশ্বাসের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
মন্ত্রিসভার প্রধান হওয়ার আগে, বছরখানেক আগে, সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার একটি বড় দুর্নীতি মামলা জনসমক্ষে আসে। এরপরই সভিরিদেঙ্কোকে মন্ত্রিসভার প্রধান করা হয়। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই অনেক সমালোচক তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমনে কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ তুলে আসছিলেন।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এই রদবদল প্রসঙ্গে বলেছেন যে, ইউক্রেন তার রাজনৈতিক কৌশল পরিবর্তন করছে এবং নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজন। কিন্তু তিনি মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ দেখাননি। অন্যদিকে বিরোধী দল হলোস পার্টির আইনপ্রণেতা ইয়ারোস্লাভ ঝেলেজনিয়াক বিদায়ী সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, আমাদের প্রতিদিন ফলাফলের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল এবং সরকার সেই প্রতিশ্রুতি রেখেছে — প্রতিদিন নতুন নতুন উপস্থাপনা, সংবাদ সম্মেলন এবং প্রতিদিন দুর্নীতির মামলায় একজন করে নতুন সন্দেহভাজন।
ইউক্রেনের সংবিধান অনুসারে প্রধানমন্ত্রী সভিরিদেঙ্কোর এই বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গেই দেশটির সম্পূর্ণ সরকারের পতন ঘটে। ফলে নতুন করে মন্ত্রিসভা গঠন করতে হবে। পার্লামেন্টের সদস্যরা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রীয় তেল ও গ্যাস কোম্পানি নাফতো গাজ-এর প্রধান সের্হি কোরেতস্কি নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেতে পারেন। এছাড়াও সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে সভিরিদেঙ্কোর পূর্বসূরি এবং বর্তমান জ্বালানিমন্ত্রী দেনিস শমিহাল কিংবা বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাইখাইলো ফেদোরভের নামও আলোচনায় রয়েছে।
রাশিয়ার সঙ্গে চলমান চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে ইউক্রেন ড্রোন ও দূরপাল্লার হামলা চালিয়ে রুশ জ্বালানি অবকাঠামোকে বিপর্যস্ত করার চেষ্টা করছে। ঠিক তখনই দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এই বড় পরিবর্তন হলো।
ইউক্রেনের সরকারের প্রধানমন্ত্রী অভ্যন্তরীণ নীতি নির্ধারণ, যুদ্ধকালীন অর্থনীতি সচল রাখা এবং বেসামরিক অবকাঠামোতে রাশিয়ার নিরলস হামলার ক্ষয়ক্ষতি মেরামতের দায়িত্ব পালন করেন। বিদায়ের প্রাক্কালে সভিরিদেঙ্কো সতর্ক করে বলেন, আসন্ন শীত মৌসুমের প্রস্তুতিই হবে নতুন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ ধারণা করা হচ্ছে, শীতের তীব্রতার সুযোগ নিয়ে রাশিয়া ইউক্রেনের বিদ্যুৎ গ্রিড এবং গ্যাসলাইনে তাদের হামলার তীব্রতা আরও দ্বিগুণ করতে পারে। ফলে অভ্যন্তরীণ এই সংকট মোকাবিলাই হবে নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য প্রধান পরীক্ষা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন