প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সিলেটের সীমান্তবর্তী উপজেলা গোয়াইনঘাটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক ও চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে থানা পুলিশের কঠোর অবস্থান রয়েছে।
গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ওমর ফারুকের নির্দেশনায় গত ৩ জুলাই থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৮১ দিনের মধ্যে বিভিন্ন অপরাধে ২৫৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এ সময়ের মধ্যে মাদক মামলায় ৩২ জন, চোরাচালান মামলায় ২৩ জন, জিআর পরোয়ানায় ৬১ জন, জিআর সাজায় ১৩ জন, সিআর পরোয়ানায় ৪০ জন, সিআর সাজায় ১১ জন এবং নিয়মিত মামলায় ৬৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২৮টি মাদক মামলায় ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসব অভিযানে উদ্ধার করা হয় ১৬০ লিটার চোলাই মদ, ২ হাজার ৫৭৫ বোতল ভারতীয় এসকাফ কফ সিরাপ, ১৬৭ বোতল ও ৪২ ক্যান বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় মদ, ১ হাজার ৬৮০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ৬১ দশমিক ৫ পুরিয়া গাঁজা। উদ্ধার করা এসব মাদকের আনুমানিক মূল্য ৬০ লাখ টাকার বেশি বলে পুলিশ জানিয়েছে।
গোয়াইনঘাট সীমান্তবর্তী উপজেলা হওয়ায় চোরাচালান রোধেও কঠোর অবস্থানে রয়েছে থানা পুলিশ। ১৭টি চোরাচালান মামলায় ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় চোরাই পণ্য ও চোরাচালানে ব্যবহৃত যানবাহন জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে ৩ লাখ ১২ হাজার ৫০০ শলাকা ভারতীয় নাসির বিড়ি, যার আনুমানিক মূল্য ৫ লাখ ২০ হাজার ২০০ টাকা; ১ হাজার ৯০০ কেজি ভারতীয় জিরা, যার আনুমানিক মূল্য ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা; ৯ হাজার ৮৭২ পিস বিভিন্ন কোম্পানির ভারতীয় চকলেট ও অন্যান্য সামগ্রী এবং ২২০ বোতল ভারতীয় অলিভ অয়েল, ডাবর আমলা হেয়ার অয়েল ও বিভিন্ন প্রসাধনী সামগ্রী। এছাড়া চোরাচালানে ব্যবহৃত একটি পুরোনো রেজিস্ট্রেশনবিহীন সিএনজি, একটি পিকআপ, একটি ডিআই পিকআপ, ইঞ্জিনচালিত কাঠ ও বারকি নৌকা এবং বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, ধারাবাহিক অভিযানের ফলে মাদক ও চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে চাপ তৈরি হয়েছে। একই সময়ে থানার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগও উঠেছে।
পুলিশের ভাষ্য, অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানের কারণে একটি স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে। তবে এসব অপপ্রচারে কান না দিয়ে অপরাধ দমনে অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ওমর ফারুক বলেন, গোয়াইনঘাট উপজেলাকে মাদক, চোরাচালানসহ সব ধরনের অপরাধমুক্ত করতে থানা পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে। তিনি সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান, কোনো অপপ্রচার বা বিভ্রান্তিকর তথ্যে কান না দিয়ে অপরাধ দমনে পুলিশকে সহযোগিতা করুন। তিনি আরও বলেন, সীমান্ত অপরাধ দমন ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি এবং কঠোর অভিযান ভবিষতেও অব্যাহত থাকবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন