প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
২ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ, একই স্থানে নতুন দোকান; রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার ৯ নম্বর সাপলেজা বাজারে প্রায় ৩০ বছর ধরে গরুর মাংসের ব্যবসা করে আসা কয়েকজন ব্যবসায়ীকে উচ্ছেদের অভিযোগ উঠেছে শামীম পহলান ও তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তাঁদের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এতে রাজি না হওয়ায় প্রতিটি গরু জবাইয়ের জন্য ১০ হাজার টাকা করে দেওয়ার চাপ সৃষ্টি করা হয় এবং একপর্যায়ে তাঁদের দীর্ঘদিনের ব্যবসা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে একই স্থানে নতুন মাংসের দোকান চালু করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁদের।
ভুক্তভোগী মাংস ব্যবসায়ী ইদ্রিস হাওলাদার বলেন, “আমি প্রায় ৩০ বছর ধরে এখানে মাংসের ব্যবসা করছি। হঠাৎ করে আমার কাছে ২ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রতিটি গরুর জন্য ১০ হাজার টাকা দিতে বলা হয়। আমরা এতে রাজি না হওয়ায় আমাদের ব্যবসা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
ইদ্রিসের অভিযোগ, তাঁদের উচ্ছেদের পর একই জায়গায় শামীম পহলান ও তাঁর অনুসারীরা নতুন দোকান চালু করেন। দীর্ঘদিনের ব্যবসা হারিয়ে তাঁরা এখন পরিবার নিয়ে জীবিকা সংকটে পড়েছেন।
তবে শামীম পহলান এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা অসুস্থ গরু জবাইয়ের চেষ্টা করেছিলেন এবং পরে ওই মাংস অন্য মাংসের সঙ্গে মেশানোর চেষ্টা করা হয়। এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন, গরুটি অসুস্থ হয়ে থাকলে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর, প্রশাসন বা পুলিশকে জানিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলো না কেন। গরুটি পরীক্ষা করা হয়েছিল কি না এবং কোনো সরকারি কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি যাচাই করেছিলেন কি না—এ নিয়েও তাঁরা তদন্ত দাবি করেছেন।
স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী ও বাসিন্দার ভাষ্য, সাপলেজা বাজারে শামীম পহলান ও তাঁর সহযোগীরা এখন *মূর্তিমান আতঙ্কে পরিণত হয়েছেন*। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ব্যবসায়ীদের ওপর বিভিন্ন ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবের কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না বলেও দাবি করেন তাঁরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, “শামীম পহলান বাহিনী”র প্রভাবের কারণে সাপলেজা বাজারে এক ধরনের ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাঁদের দাবি, বাজারের বিভিন্ন দোকান ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার এবং ভয়ভীতি সৃষ্টির অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করা জরুরি।
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, শামীম পহলানের কোনো সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক পদ-পদবি না থাকলেও স্থানীয় বিএনপির একটি অংশের নাম ও প্রভাব ব্যবহার করে তিনি বাজারে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছেন। ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখানো এবং বিভিন্ন দোকানে চাপ সৃষ্টি করার অভিযোগও করেছেন তাঁরা।
মাংস ব্যবসায়ী ইদ্রিস হাওলাদার বলেন, “৫ আগস্টের পর সরকার পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে সাপলেজা বাজারের বিএনপির কিছু নেতা শামীম পহলানকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন বলে আমাদের অভিযোগ। সেই প্রভাবের কারণে তিনি ও তাঁর সহযোগীরা বাজারে প্রভাব বিস্তার করছেন। বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ জানিয়েও আমরা প্রতিকার পাইনি।”
তিনি বলেন, “এখন আমাদের শেষ ভরসা আমাদের এমপি মহোদয়। তিনি মঠবাড়িয়ায় এলে আমরা তাঁর কাছে সব বিষয় তুলে ধরব। আশা করি, তিনি বিষয়টি শুনে স্বচ্ছ বিচার করবেন এবং আমাদের পাশে থাকবেন।”
তবে শামীম পহলানকে বিএনপির কোনো নেতা রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন—এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দলীয় নেতাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে বিএনপির সঙ্গে শামীম পহলানের আনুষ্ঠানিক সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা বা কোনো পদ-পদবি রয়েছে কি না, সেটিও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় মাদ্রাসার শিক্ষক ও সাংবাদিক আব্দুস কুদ্দুস খান জানান, শামীম পহলানের বিরুদ্ধে বিগত সরকারের আমলে হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন অপরাধে একাধিক মামলা থাকার কথা তিনি জানেন।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ঈদুল ফিতরের চাঁদরাতে শিক্ষক আব্দুস কুদ্দুস খানকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনায় শামীম পহলানের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। আহত কুদ্দুস খানকে প্রথমে পিরোজপুরে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, আদালতের নির্দেশে মঠবাড়িয়া থানায় এ ঘটনায় এজাহার গ্রহণ করা হয়েছে। মামলাটি প্রভাব খাটিয়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও তাঁদের অভিযোগ।
এ ছাড়া স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, পূর্ববর্তী সময়েও শামীম পহলানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ও মামলা ছিল। এর মধ্যে হত্যা মামলার কথাও তাঁরা উল্লেখ করেছেন। তবে এসব মামলার সুনির্দিষ্ট সংখ্যা, মামলা নম্বর এবং বর্তমান আইনগত অবস্থান যাচাই করা প্রয়োজন।
তালাশ বিডির কাছে ভুক্তভোগী মাংস ব্যবসায়ীদের ভিডিও বক্তব্য, অডিও রেকর্ডিং, শিক্ষক আব্দুস কুদ্দুস খানকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় মামলার কপি এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত সংরক্ষিত রয়েছে। এসব তথ্য-উপাত্ত ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যের ভিত্তিতেই অভিযোগগুলো প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত শামীম পহলানের বক্তব্যও নেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের দাবি, দীর্ঘদিনের ব্যবসা থেকে তাঁদের উচ্ছেদ, চাঁদা দাবির অভিযোগ এবং একই স্থানে নতুন দোকান চালুর ঘটনাসহ রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশের পাশাপাশি সাপলেজা বাজারে ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন