প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সম্পত্তির ন্যায্য অধিকার দাবি করায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার সুহিলপুর ইউনিয়নের তেলিপাড়া মোল্লা বাড়িতে এক প্রতিবন্ধী সুমন মোল্লার পরিবারকে সমাজচ্যুত ও অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্বজন ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটে এই এলাকায়।
ভুক্তভোগী সুমন মোল্লা ও তার পরিবার জানায়, পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের কারণে গত পাঁচ দিন ধরে তাদেরকে বাসায় অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। আসন্ন রোববার (৫ জুলাই) তার স্ত্রী ও সন্তানকে চিকিৎসার জন্য বাড়ি থেকে বের হতে দেওয়া হলে, পথ রোধ করে হামলা হতে বাধ্য করা হয়। এই হামলায় প্রতিবন্ধী সুমন মোল্লা (৪৪) গুরুতর আহত হন।
জানা গেছে, প্রতিবন্ধী সুমন মোল্লা প্রায় ১৫ বছর আগে প্যারালাসিসে আক্রান্ত হয়ে হুইলচেয়ারে চলাফেরা করেন। এই অবস্থায় স্ত্রী নিলা বেগম (লাইলি বেগম) ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছেলে আরফান মোল্লার সঙ্গে তার সংসার চলে। তাদের আয়ের অন্যতম উৎস হল বাড়ির সামনে থাকা একটি দোকান।
বিরোধের বিষয়ে সুমন মোল্লা বলেন, সদর উপজেলার সুহিলপুর বাজার সংলগ্ন প্রায় ১৬ শতক জমি নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত ঘটে। জমিটি তার বাবার কেনা, কিন্তু দলিল তার মায়ের নামে হওয়ায় পরে চার ভাই নিজেদের নামে লিখে নেন। এর ফলে তিনি যখন নিজের ন্যায্য অংশ দাবি করেন, তখন তার বিরুদ্ধে দুইটি মামলা করা হয় এবং বিভিন্নভাবে নির্যাতন শুরু হয়। সমাজচ্যুত করার পর এখন তার দোকানেও যেতে দেওয়া হয় না।
তিনি আরও জানান, এলাকার কেউ ওই দোকান থেকে কেনাকাটা করলে অথবা কোনো শিক্ষার্থী সেখানে গেলে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও জুতা দিয়ে মারধরের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, জায়গা-জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে এবং এ বিরোধের জেরে সুমন মোল্লাকে সমাজিকভাবে একঘরে করে রাখা হয়েছে। এছাড়া তার দোকানে কেউ যেন কেনাকাটা না করে, সে ব্যাপারেও এলাকায় নিষেধাজ্ঞা আছে বলেও অভিযোগ জানান তারা।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত ভাইরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তারা দাবি করেন, এই বিষয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিক সালিশ আয়োজন করা হলেও সুমন পক্ষ সালিশে হাজির হয়নি। এরপরেই এলাকাবাসী তাদের বিষয়ে সহযোগিতা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে তাদের বক্তব্য।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে থানায় অভিযোগের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার। তবে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম বলেন, এসব অভিযোগের ব্যাপারে এখনো কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন