প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নেপালের ভয়াবহ বন্যার প্রেক্ষাপটে একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। প্রবল স্রোতে ভেসে যাওয়া একটি ব্যাংকের সিন্দুক পরে নদীর তীরে পাওয়া যায়। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি সেটি ভেঙে ভেতরে থাকা টাকা নিয়ে যান। এই ঘটনায় ২৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৯২ লাখ ৬৮ হাজার ৫০৫ নেপালি রুপি।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সিন্দুকটি নেপালের রাসুয়া জেলার ভোতেকোশি এলাকার বন্যার পানিতে ভেসে যায়। পরবর্তীতে এটি ধাদিং জেলার গালছি গ্রামীণ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বেলখুখোলা এলাকায় ত্রিশূলী নদীর নিকট পাওয়া যায়।
ধাদিং পুলিশ জানায়, ১২ সেপ্টেম্বর স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানে তারা জানতে পারে, স্থানীয় কয়েকজন সিন্দুকটি ভেঙে ভেতরের টাকা নিয়ে গেছেন। এরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২৯ জনকে আটক করে।
আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে মোট ৯২ লাখ ৬৮ হাজার ৫০৫ নেপালি রুপি উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের অধিকাংশই গালছি গ্রামীণ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাস্টার এলাকার বাসিন্দা। এছাড়াও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আদমঘাট, সিদ্ধলেক গ্রামীণ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আদমতারসহ চিতওয়ান ও পারসার কয়েকজন বাসিন্দাও আটক হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বয়স ১৯ থেকে ৪৯ বছরের মধ্যে।
উদ্ধার হওয়া অর্থের প্রকৃত উৎস এবং এই ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্তের পর এ বিষয়ে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বন্যার পর আরেকটি ঘটনার খবরও এসেছে। নারায়ণী নদীর স্রোতে ভেসে যাওয়া এক নারীর মরদেহ থেকে সোনার দুল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। ভিডিওতে দেখা যায়, বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়া ওই নারীর মরদেহ থেকে দুজন কানের দুল খুলে নিতে দেখা যায়।
এদিকে, নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর হতাহত এবং নিখোঁজের সংখ্যা বাড়ছে। নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ শনিবার নতুন করে হিসাব প্রকাশ করেছে। এতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ২ হাজার ৪২৬ জন।
এর আগে শুক্রবার রাতে নিখোঁজের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৯২৪ জন। নতুন হিসাব অনুযায়ী, নিখোঁজ নেপালি নাগরিকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা ৫১৭ জনেই রয়েছে।
ভয়াবহ বন্যার পর তিন দিন পেরিয়ে গেলেও দুর্গত বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ক্ষতিগ্রস্ত ও বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে নিখোঁজদের সন্ধানে কাজ করছেন।
সূত্র:
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন