প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সেগুলো পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে—এমন কোনও ‘নির্ভরযোগ্য প্রমাণ’ এখনও পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি।
আর্জেন্টিনার সংবাদপত্র ক্লারিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গ্রোসি বলেন, যুদ্ধের কারণে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে আছে। তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও যাচাইয়ের কাজ আবার শুরু করার জন্য আইএইএ প্রস্তুত রয়েছে।
গ্রোসি জানান, ইরানের কাছে থাকা প্রায় ৪৪০ কেজি (৯৭২ পাউন্ড) উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এখনও গত বছরের ‘১২ দিনের যুদ্ধ’-এর সময় যেখানে ছিল, সেখানেই রয়েছে।
তিনি বলেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলার ফলে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কিছু অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের প্রাথমিক উদ্যোগ নেওয়া হয়ে থাকতে পারে—এ সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে সেগুলো ব্যাপকভাবে পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে—এমন কোনও দৃঢ় প্রমাণ আইএইএর হাতে নেই।
গ্রোসি বলেন, “স্থাপনাগুলো উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সম্ভবত তারা তাদের কিছু অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করেছে—এটি অস্বীকার করা যায় না। কিন্তু এমনটা ঘটছে বলে কোনও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। ফলে বিষয়টি এখনও বড় ধরনের অমীমাংসিত সমস্যা হয়ে রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা প্রস্তুত এবং আশা করছি যত দ্রুত সম্ভব সেখানে আবার আমাদের কাজ শুরু করতে পারব।”
হামলার পরও ইউরেনিয়ামের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ সবচেয়ে বেশি। ইউরেনিয়াম উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ করার মাত্রা যত বাড়ে, তা পারমাণবিক জ্বালানি ও অস্ত্র তৈরির সক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কিত হয়ে ওঠে।
গ্রোসির বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের প্রায় ৪৪০ কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এখনও গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধের সময়কার অবস্থানেই রয়েছে। এর অর্থ হলো, হামলার পর ওই মজুত অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে—এমন কোনও নিশ্চিত তথ্য আইএইএ’র হাতে নেই।
তবে এই মজুতের বর্তমান অবস্থা ও অবস্থান সরাসরি যাচাই করতে আইএইএর পরিদর্শকদের মাঠপর্যায়ের প্রবেশাধিকার প্রয়োজন। যুদ্ধের কারণে সেই যাচাই ও পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
পারমাণবিক আলোচনা স্থবির
গ্রোসির বক্তব্যে উঠে এসেছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনা বর্তমানে কার্যত স্থবির। যুদ্ধ ও সামরিক হামলার কারণে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনার পরিবেশ তৈরি হয়নি।
আইএইএ দীর্ঘদিন ধরে ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে আসছে এবং তেহরানের ঘোষিত কর্মসূচি ও মজুত সম্পর্কে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে যাচাইযোগ্য তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করছে।
কিন্তু পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে সামরিক হামলার পর আইএইএ’র পরিদর্শন ও নজরদারি কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ফলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
গ্রোসি বলেন, আইএইএ আবারও ইরানে গিয়ে কাজ শুরু করতে প্রস্তুত। তার মতে, যত দ্রুত সম্ভব পরিদর্শন ও যাচাই কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা জরুরি।
পুনর্নির্মাণের প্রমাণ না মিললেও উদ্বেগ কাটেনি
আইএইএ প্রধানের বক্তব্যে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা পুনর্নির্মাণের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনও নিশ্চিত প্রমাণ না থাকার বিষয়টি স্পষ্ট হলেও, তিনি এটিও জানিয়েছেন যে কিছু অবকাঠামোর পুনর্গঠন শুরু হয়ে থাকতে পারে।
ফলে স্থাপনাগুলোর প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে সরাসরি পরিদর্শন ও প্রযুক্তিগত যাচাই প্রয়োজন বলে মনে করছে আইএইএ।
গ্রোসি যে বিষয়টিকে ‘বড় ধরনের অমীমাংসিত সমস্যা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, তার মূল কারণ হলো—স্থাপনাগুলো কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ইরান সেখানে কী ধরনের পুনর্গঠন করছে এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত বর্তমানে ঠিক কী অবস্থায় রয়েছে—এসব প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি।
এ অবস্থায় আইএইএ’র পরিদর্শন পুনরায় শুরু হওয়াকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক স্বচ্ছতা ও আস্থা ফিরিয়ে আনার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সূত্র: আল-জাজিরা
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন