প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে দুই মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ তার বাবা ও মাকে গ্রেপ্তার করেছে। শিশুটির মাথা ও মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাত পাওয়া গেছে এবং মাথার খুলিতে একাধিক ভাঙা অংশ দেখা গেছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির বাবা অস্কার পিনেদা অভিযোগ করেছেন, ‘শয়তান দরজা দিয়ে শিশুটিকে আঘাত করেছে’। তবে তদন্তকারীরা শিশুটির শরীরে পাওয়া আঘাতের ধরন ও মাত্রা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন। ২১ বছর বয়সী অস্কার পিনেদা এবং তার স্ত্রী কাতেরিন মোনসন-আলভারাদোর বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতন, হামলা এবং বেপরোয়া আচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগে সর্বোচ্চ ৫৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। বাল্টিমোর পুলিশ জানায়, দুই মাস বয়সী আইদা মিকেয়া মোনসন আলভারাদোর মৃত্যুর ঘটনায় দম্পতির বিরুদ্ধে প্রথম ও দ্বিতীয় মাত্রার শিশু নির্যাতন, প্রথম ও দ্বিতীয় মাত্রার হামলা এবং বেপরোয়া ঝুঁকি তৈরির অভিযোগ রয়েছে।
ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে আরও গুরুতর, এমনকি হত্যার অভিযোগ আনা হতে পারে বলেও পুলিশ জানিয়েছে। বুধবার শিশুটিকে বাল্টিমোরের হারবার হাসপাতালে নেওয়া হয়। ওই সময় তার দুই চোখ এবং চোয়ালের চারপাশে গুরুতর কালশিটে দাগ দেখা যায়। চিকিৎসকেরা এসব আঘাতকে সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত করেন। পরবর্তীতে পরীক্ষায় শিশুটির মাথা ও মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাত ধরা পড়ে। তার মাথার খুলির বিভিন্ন অংশও ভাঙা ছিল। চিকিৎসকেরা আরও দেখতে পান, মস্তিষ্কের সামনের অংশে এবং মস্তিষ্কের একটি আবরণীর নিচে রক্তক্ষরণ হয়েছে। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, হাসপাতালে প্রথম পরীক্ষার সময় এসব গুরুতর আঘাত ধরা পড়েনি।
হাসপাতালের চিকিৎসকেরা শিশুটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে। তদন্তের সময় শিশুটির বাবা পুলিশকে জানান, অতিপ্রাকৃত কোনো শক্তির কারণে অথবা ‘শয়তান দরজা দিয়ে শিশুটিকে আঘাত করায়’ তার মেয়ে আহত হয়েছে। তবে বাবা-মায়ের দেওয়া বক্তব্যে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। শুক্রবার আদালতে শুনানির সময় একজন প্রসিকিউটার জানান, শিশুটির মা তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, তাদের দুই বছর বয়সী ছেলে প্রায়ই বিছানার ওপর লাফালাফি করত। তার কারণে শিশুটি বিছানা থেকে মেঝেতে পড়ে যায় বলে মা দাবি করেছেন।
তবে প্রসিকিউটারের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটির শরীরে যে ধরনের এবং যতটা গুরুতর আঘাত পাওয়া গেছে, তা শুধু একবার বিছানা থেকে পড়ে যাওয়ার কারণে হয়েছে বলে মনে হয় না। পুলিশ জানায়, বুধবার শিশুটির মা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। এর আগে শিশুটি কোনো সাড়া দিচ্ছিল না। পুলিশকে ওই নারী প্রথমে জানান, শিশুকে খাবার খাওয়ানোর পর বিছানায় উপুড় করে শুইয়ে রাখা হয়েছিল। ওই অবস্থায় শিশুটি সাড়া দেওয়া বন্ধ করে দেয়। পরে তদন্তকারীদের কাছে মা বলেন, হাসপাতালে নেওয়ার সময় শিশুটিকে ‘ঠান্ডায় জমে যাওয়া এবং ভয়ে হতবাক’ অবস্থায় দেখাচ্ছিল।
তদন্তকারীদের কাছে বাবা ও মা দুজনেই স্বীকার করেছেন, ৬ সেপ্টেম্বর তারা শিশুটির শরীরে কালশিটে দাগ দেখতে পেয়েছিলেন। পরদিন, অর্থাৎ ৭ সেপ্টেম্বর, শিশুটি বমি করতে শুরু করে। তবে শিশুটি বুধবার সাড়া দেওয়া বন্ধ করার আগ পর্যন্ত তাকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়নি বলে তদন্তকারীদের জানিয়েছেন তারা। পুলিশ ও প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, শিশুটির শরীরে আগে থেকেই আঘাতের চিহ্ন থাকার পরও তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়নি।
অস্কার পিনেদা ও কাতেরিন মোনসন-আলভারাদো দুজনই গুয়াতেমালার নাগরিক। আদালতে প্রসিকিউটাররা তাদের জামিন না দেওয়ার পক্ষে যুক্তি দেন। তাদের দাবি, ওই দম্পতির ‘চরমভাবে পালিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি’ রয়েছে। আদালত তাদের জামিন ছাড়াই হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন