প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মুন্সীগঞ্জ, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ : ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে, যা রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার যোগাযোগের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, সেখানে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, এই উদ্যোগের ফলে ব্যস্ততম সড়কটিতে আইন অমান্যকারী যানবাহন চালকরা এআই নির্ভর স্বয়ংক্রিয় মামলার আওতায় আসবেন।
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের ৫৫ কিলোমিটার রাস্তায় মুন্সীগঞ্জ জেলায় ৩৫ কিলোমিটার রয়েছে। এই সড়কে ঘটে যাওয়া অধিকাংশ দুর্ঘটনার মূল কারণ হচ্ছে বেপরোয়া গতি এবং ওভারটেকিং।
মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৫ জুন পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের পর থেকে ২০২৬ সালের ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ৫৮৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৫২ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৯৫০ জন আহত হয়েছেন।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম বাসসকে জানিয়েছেন, অধিকাংশ দুর্ঘটনার কারণ হচ্ছে বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করা।
সম্প্রতি, সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম মুন্সীগঞ্জে উন্নয়নকাজ পরিদর্শনকালে বলেন, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে এআই ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণে আনার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
বর্তমানে জাতীয় মহাসড়কগুলো এআই ক্যামেরার পর্যবেক্ষণের আওতায় এসেছে। ধাপে ধাপে জেলা ও আঞ্চলিক হাইওয়ে সড়কগুলোও এআই ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণে এনে সার্বক্ষণিক নজরদারী করা হবে এবং সড়ক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
গাজীপুর রিজিয়নের হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বাসসকে জানান, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে অধিকাংশ দুর্ঘটনার কারণ হচ্ছে বেপরোয়া গতি। এক্সপ্রেসওয়ের সম্পূর্ণ এলাকা এআই ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণে এনে দ্রুতগতি, ওভারটেকিং এবং সড়ক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে এআই নির্ভর স্বয়ংক্রিয় মামলার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে এআই ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণে আসলে ওভারস্পিডে গাড়ি চালানো এবং ওভারটেকিং বন্ধ হবে। ফলে যানবাহন চালকরা সচেতন হয়ে সড়ক আইন মেনে গাড়ি চালাবেন। এতে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।
মুন্সীগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মমিনুল ইসলাম বাসসকে জানিয়েছেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সড়কের বিভিন্ন স্থানে যানবাহনের গতিসীমা এবং সাইন মার্কিং করা আছে, এছাড়া সড়কের বিভিন্ন স্থানে সিসি ক্যামেরাও রয়েছে।
তবে বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, আকস্মিক ইউটার্ণ, চালকের অসতর্কতা, সড়ক আইন না মানা এবং ঘন কুয়াশার কারণে সড়কে দুর্ঘটনা ঘটছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন