প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পোল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ক্রাকোভের ঐতিহাসিক প্রধান চত্বরে বন্দুকধারীর গুলিতে ছয়জন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। হামলার পর, ২৪ বছর বয়সী এক পোলিশ নাগরিক পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে গুলিবিনিময়ের সময় আহত অবস্থায় গ্রেপ্তার হন। পরে তাঁর বাড়ি থেকে আরও তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে ক্রাকোভের প্রধান চত্বরে হামলার ঘটনাটি ঘটে। পোলিশ কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, সামরিক পোশাক পরিহিত ওই ব্যক্তি গাড়ি থেকে নেমে এআর-১৫ রাইফেল দিয়ে চত্বরে উপস্থিত লোকজনের দিকে গুলি চালান। এ সময় আতঙ্কিত মানুষ আশপাশের দোকান, ক্যাফে ও ভবনে আশ্রয় নেন।
পুলিশ জানায়, হামলার খবর পাওয়ার সাথে সাথে ঘটনাস্থলে সদস্যরা পৌঁছান। পুলিশের সঙ্গে গুলিবিনিময়ের এক পর্যায়ে হামলাকারী আহত হন এবং তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। পুলিশের দাবি, প্রথম খবর পাওয়ার তিন মিনিটের মধ্যে হামলাকারীকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারীর বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স ছিল। তাঁর গাড়ি থেকে আরও অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। হামলাকারীর বাড়িতে অস্ত্র থাকতে পারে—এমন আশঙ্কায় ড্রোন দিয়ে নজরদারি চালানো হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে আশপাশের বাসিন্দাদের সরিয়ে সেখানে অভিযান চালানো হয়।
পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক জানিয়েছেন, হামলাকারীর বাড়ি থেকে তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাঁরা হামলাকারীর নিকটাত্মীয়। তবে তাঁদের পরিচয় এবং মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মার্সিন কিয়েরউইনস্কি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে হামলাকারীর ওপর উগ্র ডানপন্থী মতাদর্শের প্রভাব থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে হামলার উদ্দেশ্য এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনার তদন্ত করছে।
এদিকে, হামলার ঘটনায় পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ক্যারোল নাভরোকি ৮ ও ৯ নভেম্বর দুই দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছেন। ক্রাকোভ শহর কর্তৃপক্ষও ৮ থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত শোক পালনের ঘোষণা দিয়েছে।
ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কায়া কালাসসহ বিভিন্ন দেশের নেতারা। তথ্যসূত্র: রয়টার্স, এপি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন