প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন যে, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ‘খুব শিগগিরই’ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি একইসঙ্গে তেহরানে আলোচনার জন্য কার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তবে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার এমন বক্তব্যের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর প্রস্তুতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) আলাবামায় অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, তেহরানে আলোচনার জন্য তাঁর সামনে কোনো স্পষ্ট পক্ষ নেই। তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমি জানি না কার সঙ্গে কথা বলব। সেখানে কথা বলার মতো কেউ নেই।’ এরপর তিনি জানান, ‘যেভাবেই হোক’ যুদ্ধ শেষ হবে এবং তা ‘খুব শিগগিরই’ হতে পারে।
ট্রাম্প আরও বলেন, যুদ্ধ সম্ভবত নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর শেষ হতে পারে। তিনি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া যাবে না বলেও পুনর্ব্যক্ত করেন।
ট্রাম্পের এই বক্তব্যের সময়ই হরমুজ প্রণালি এলাকায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি এলাকায় দুটি তেলবাহী ট্যাংকার অজ্ঞাতনামা প্রক্ষেপণের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রথম ট্যাংকারটিতে আঘাতের পর অল্প সময়ের জন্য আগুন ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং জাহাজটি যাত্রা অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়। এতে কোনো হতাহত বা পরিবেশগত ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
এর কয়েক ঘণ্টা পর ওমানের পূর্বে আরেকটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার অজ্ঞাতনামা প্রক্ষেপণের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানায়। জাহাজটির সব নাবিক নিরাপদ রয়েছেন। দুই ঘটনারই তদন্ত চলছে।
এদিকে মার্কিন সিনেটর ক্রিস ভ্যান হলেন ইরান যুদ্ধে সামরিক ব্যয় বন্ধে কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে আরও মার্কিন সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাঁর দাবি, আরও প্রায় ১০ হাজার সেনা ওই অঞ্চলে পাঠানো হতে পারে।
এর মধ্যে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর ইরানে সামরিক অভিযানের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে ভবিষ্যৎ যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে একটি গবেষণা শুরু করেছে। ‘প্রজেক্ট মেরিডিয়ান’ নামের এই উদ্যোগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা, নির্দেশিত শক্তি, রোবটিক প্রযুক্তি ও জীবপ্রযুক্তির মতো ক্ষেত্র নিয়ে কাজ করা হবে।
অন্যদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের উপপ্রধান মেজর জেনারেল মোস্তফা ইজাদি দাবি করেছেন, দেশটির স্থল, আকাশ, আকাশ প্রতিরক্ষা ও নৌ সক্ষমতায় বড় ধরনের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি হয়েছে। প্রতিপক্ষের জন্য ইরানের হাতে আরও কিছু ‘প্রযুক্তিগত চমক’ রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।
ফলে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যের পাশাপাশি হরমুজে জাহাজে হামলা, সামরিক প্রস্তুতি এবং ইরানের পাল্টা সক্ষমতার দাবিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত ঘিরে অনিশ্চয়তা এখনো অব্যাহত রয়েছে। তথ্যসূত্র: দ্য ডন, আল-জাজিরা, রয়টার্স
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন