প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভোজপুরি সিনেমার অভিনেতা এবং গায়ক মনোজ তিওয়ারীর কন্যা রীতি তিওয়ারী। এই পরিচয়টি তার জন্য প্রধান ছিল। তবে ‘বিগ বস ২০’-এ অংশগ্রহণের পর, নিজের কথাবার্তা, আচরণ এবং ব্যক্তিগত জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তিনি আলোচনায় আসেন। ২৫ বছর বয়সী রীতির পরিচয় এখন আর শুধুমাত্র ‘মনোজ তিওয়ারীর মেয়ে’ নয়। বিতর্কের কারণে তিনি বারবার খবরের শিরোনামে উঠে আসছেন, যদিও তা ইতিবাচক নয়।
কখনো সহপ্রতিযোগীর সঙ্গে তর্কে জড়ানো, কখনো বিতর্কিত মন্তব্য করা, আবার কখনো নিজের আর্থিক সমস্যার কথা শেয়ার করা— এসব বিষয় নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে রীতিমতো হইচই ফেলে দিয়েছেন রীতি তিওয়ারী।
রীতির জন্ম ২০০১ সালের ২৩ জুন। তিনি মুম্বাইয়ের জমনাবাই নরসি স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। গীতিকার, সুরকার এবং সংগীত প্রযোজক হিসেবে কাজ করছেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই গান শেখার পাশাপাশি গিটার বাজানোও তার শখ।
গান ছাড়াও, ব্যবসার ক্ষেত্রেও যুক্ত রয়েছেন রীতি তিওয়ারী। তিনি একটি ক্রীড়াসামগ্রী সংস্থার মালিক। সেই সময় তিনি জানিয়েছিলেন, গান এবং অভিনয়ের পাশাপাশি সমাজসেবার প্রতি তার আগ্রহ রয়েছে।
রীতির সাম্প্রতিক কথাবার্তায় তার বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের বিষয়টি সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে। ‘বিগ বস’-এর ঘরে তিনি জানিয়েছেন, বাবা-মায়ের সম্পর্কের টানাপোড়েনের সময় তার বয়স ছিল মাত্র আট বছর। সেই সময় বাবার ফোন আসলে তার সঙ্গে কথা বলা কঠিন হয়ে পড়ত। বছরে একবার বাবার সঙ্গে দেখা হতো বলেও তিনি দাবি করেন।
রীতি তিওয়ারী বলেন, মাসে ‘মাত্র’ ২০-২৫ হাজার টাকা হাতখরচ পেতেন তিনি। এই টাকা দিয়ে তার জীবনযাপন করা বেশ কঠিন ছিল। কখনো দিনে দুবার মাত্র ১০ টাকার বড়া খেয়ে কাটাতে হয়েছে তাকে। এমনকি প্রয়োজন হলে গাড়িতে ‘মাত্র’ ৫০০ টাকার তেল ভরাতেন বলেও জানান তিনি।
নিজের ক্যারিয়ার গঠনের সময় বাবার কাছ থেকে আর্থিক সাহায্য না পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন মনোজকন্যা। রীতি বলেন, তার বাবা তাকে স্পষ্টভাবে বলেছিলেন— নিজের প্রতিভা থাকলে নিজের যোগ্যতায় ক্যারিয়ার তৈরি করতে হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, বাবার পরিচয় তাকে সামাজিক সম্মান দিয়েছে, তবে বাবার অর্থ বা সুযোগ-সুবিধা তিনি তার ক্যারিয়ার তৈরিতে ব্যবহার করেননি।
অন্যদিকে, রীতির হাতখরচ সংক্রান্ত বক্তব্যের পর নতুন করে বিতর্ক শুরু করেন পাঞ্জাবি গায়ক একম বাওয়া। তিনি নিজেকে রীতির মায়ের সাবেক সঙ্গী হিসেবে পরিচয় দিয়ে সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও শেয়ার করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি রীতির মা রানি তিওয়ারীর সঙ্গে একই বাড়িতে ছিলেন। পরে ২০২২ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি তাদের বিয়ে হয় এবং ২০২৫ সাল পর্যন্ত সেই দাম্পত্য বজায় ছিল বলে জানান একম বাওয়া।
একম বাওয়া আরও জানান, রীতির কাছে চার-পাঁচ লাখ টাকার ব্যাগ রয়েছে, দামি গাড়ি, মুম্বাইয়ে সম্পত্তি রয়েছে এবং একটি ক্রীড়াসামগ্রী সংস্থার কথাও বলেন তিনি। তবে এই দাবি মেনে নেননি রীতির টিম সদস্যরা। পাল্টা জবাব দিতে তারা আইনি পথে হাঁটছেন বলে জানা গেছে।
‘বিগ বস’-এর ঘরে রীতির আচরণ নিয়েও বিতর্ক হয়েছে। কাজী তৌকীরের সঙ্গে তর্কের সময় ব্যক্তিগত মন্তব্য, কটু ভাষা এবং পরে বাবার নাম করে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। কাজীর সঙ্গে বিবাদের কারণে সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মধ্যে রীতির বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
শেষ পর্যন্ত ‘উইকঅ্যান্ড কা ওয়ার’-এ রীতিকে সরাসরি বকুনি দেন সালমান খান। তিনি রীতির ভাষা ও আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। রীতির বিরুদ্ধে কাজী ও উদিতি সিংকে নিয়ে করা ব্যক্তিগত মন্তব্যের প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। এমনকি মনোজ তিওয়ারীর কন্যা হিসেবে বাবার সম্মানের কথাও মনে করিয়ে দেন সালমান খান। সালমান স্পষ্টভাবে বলেন যে, কাজী তৌকীরকে হিংসে করেন রীতি।
বিতর্ক শুধু কথাবার্তা বা আচরণে সীমাবদ্ধ থাকেনি। ঘরের মধ্যে রীতি তিওয়ারীর গান গাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে নিয়ে নানা মশকরা শুরু হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন