প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কক্সবাজারের চকরিয়ায় অপহৃত ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ ইসফাতুল ইসলাম জিসানের (২৪) রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের খুটাখালী কচ্ছপিয়া ঢালা এলাকা থেকে তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত জিসান কাকারা ইউনিয়নের লোটনী এলাকার বাসিন্দা এবং ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বে ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, রবিবার সাড়ে ১১টার দিকে কাকারা ইউনিয়নের লোটনী এলাকার সাবের সওদাগরের দোকানের সামনে থেকে একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসে করে কয়েকজন ব্যক্তি জিসানকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। অপহরণের প্রায় চার ঘণ্টা পর চট্টগ্রাম - কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে জিসানের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
জানা যায়, জিসান চকরিয়া পৌর শহরের আনোয়ার শপিং কমপ্লেক্সে একটি কাপড়ের দোকান পরিচালনা করতেন। অন্যান্য সময়ের মতো রাত ১১টায় দোকান বন্ধ করে বাড়ি যাচ্ছিলেন। বাড়ির কাছেই রাস্তার ওপর থেকে জিসানকে অপহরণ করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, জিসানকে অপহরণের পর চকরিয়া পৌরসভার সবুজবাগ আবাসিক এলাকার ‘কবির টাওয়ার’-এ নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে নির্মমভাবে তাঁর মরদেহ মহাসড়কের নির্জন স্থানে ফেলে রেখে যায় ঘাতকরা।
এদিকে ঘটনার প্রেক্ষাপটে জিসানের বড় ভাই কায়সারের সঙ্গে কবির টাওয়ারের মালিক জকরিয়া-র ছোট ভাই মিজানের একটি অডিও কথোপকথন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অপহরণের মাত্র দুই ঘণ্টা আগের ওই অডিওতে মিজানকে বলতে শোনা যায়, "আমরা অপারগ হয়ে একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এজাহার লিখেছি। কালকে দিনের মধ্যে আপনার ভাইকে (জিসানকে) নিয়ে যদি সমাধানে না বসেন, তাহলে আমি আমার মতো সমাধানের রাস্তা খুঁজে নেব। আপনার ভাইকে খুঁজতে ৫০ জন লোক রেডি আছে।"
এ খবর পেয়ে স্থানীয় জনতা সবুজবাগ এলাকার কবির টাওয়ারের পার্কিংয়ে সন্দেহভাজন একটি সাদা রঙের এক্স-নোহা (X-Noah) গাড়ি শনাক্ত করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চাইলে ভবন মালিকের পরিবার নানা অজুহাতে ফুটেজ দেখাতে অস্বীকৃতি জানায়।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন এবং এর পেছনের কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহসহ ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন