প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেছেন, “আপনারা জনগণের সেবক হন। ব্রিটিশ আমলের পুলিশ আইন পরিবর্তন করে সময়োপযোগী আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে। আপনারা অপরাধীর মনে ভয় আর নিরপরাধীর মনে প্রশান্তি জাগাবেন। বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে।”
বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে ২৭তম সার্জেন্ট ও ৪৩তম সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) ব্যাচের শিক্ষানবিশ পুলিশ সদস্যদের ছয় মাসব্যাপী মৌলিক প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নবীন কর্মকর্তাদের ডিজিটাল ও সাইবার অপরাধ দমনে সর্বোচ্চ কারিগরি জ্ঞান অর্জনের জন্য তাগিদ দেন। তিনি পুলিশের নবীন কর্মকর্তাদের সততা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সংবিধান ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে দেশে আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, চেইন অব কমান্ড, শৃঙ্খলা, আনুগত্য ও সমন্বিত নেতৃত্বই একটি বাহিনীর শক্তির মূল ভিত্তি। বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে একটি জনবান্ধব পুলিশিং ব্যবস্থার স্বাদ দেশবাসীকে উপহার দিতে হবে। বর্তমান সময়ে আমরা একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, যেখানে নবীন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব অনেক বেশি। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রাখা হবে। বর্তমান সরকার একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী ‘পুলিশ সংস্কার কমিশন’ গঠনের মাধ্যমে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে মেধা ও জ্যেষ্ঠতাকে একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করে যাচ্ছে।
নবীন কর্মকর্তাদের ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সৈনিক হিসেবে অভিহিত করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আইনের প্রতি অবিচল আস্থা এবং দেশের নাগরিকদের প্রতি দায়িত্ব ও জবাবদিহিতাই হবে আপনাদের কর্মের মূল ভিত্তি। তিনি উল্লেখ করেন, মাদক শুধু একজনকেই শেষ করে না বরং পুরো সমাজ ও দেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। তাই কোনো অবস্থাতেই মাদকে ছাড় দেওয়া যাবে না; কঠোর হাতে মাদক দমন করতে হবে।
২৭তম সার্জেন্ট ব্যাচের ৮৪ জন (সবাই পুরুষ) এবং ৪৩তম এসআই ব্যাচে ১৬২ জন (৫ জন নারী ও ১৫৭ জন পুরুষ) প্রশিক্ষণার্থী কুচকাওয়াজে অংশ নেন। এর আগে প্রধান অতিথি অভিবাদন গ্রহণ করেন এবং প্যারেড পরিদর্শন শেষে প্রশিক্ষণের বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী আটজন কর্মকর্তার হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন।
বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির অধ্যক্ষ মাইনুল হাসানের (বিপিএম, পিপিএম, এনডিসি) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির, রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে তৎকালীন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পট পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণে ১২০ জন সার্জেন্ট এবং ২০৭ জন সাব-ইন্সপেক্টরসহ মোট ৩২৭ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও পুনর্বাসন যাচাই কমিটির পর্যালোচনার পর অবশেষে ৮৪ জন সার্জেন্ট এবং ১৬২ জন সাব-ইন্সপেক্টরসহ (৫ জন নারী ও ১৫৭ জন পুরুষ) সর্বমোট ২৪৬ জন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। প্রশিক্ষণ শেষে তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মস্থলে যোগদানের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন