প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী মন্তব্য করেছেন যে, রাজনৈতিক দলের অনেক নেতা বাজারে গিয়ে পণ্য কেনেন না। তাদের হয়ে অন্যরা বাজারে গিয়ে পণ্য সংগ্রহ করেন। এই কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ এবং পণ্যের দাম সম্পর্কে তাদের সঠিক ধারণা নেই।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে লিফলেট বিতরণ ও এক পথসভায় তিনি এই বক্তব্য প্রদান করেন।
নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, "আমরা যখন বাজারে যাই, তখন পণ্য কিনতে গিয়ে দেখি, সেগুলো আমাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নেই। তাহলে দরিদ্র মানুষের কী অবস্থা হবে?" তিনি আরও বলেন, এনসিপির পুনর্গঠিত কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এই কমিটি আগামী দিনের লড়াইয়ের প্রস্তুতি হিসেবে গঠন করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৭ বছরে বাংলাদেশের মানুষ যখন মনে করেছিল, শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরানো সম্ভব নয়, তখন আমরা রাজপথে নেমেছিলাম। "আমরা অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষ অতীতেও প্রতিবাদ করেছে, ভবিষ্যতেও করবে।"
তিনি বলেন, নির্বাচনের পর সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, দলীয়করণ হবে না, সবকিছু মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা হবে এবং একটি জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠন করা হবে। কিন্তু এসব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছে না।
নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী আরও বলেন, "মানুষের সঙ্গে কথা বলার সময় তারা আমাদের বলেছেন, সরকার যেন তাদের পেটে লাথি মারার চেষ্টা করছে।" তিনি উল্লেখ করেন, গণ-অভ্যুত্থানের সময় আমরা যেভাবে অংশ নিয়েছিলাম, তেমনি এ সময়ও অনেক রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন ব্যক্তি হাল ছেড়ে দিয়েছেন। তারা মনে করছেন, এই সরকারকে কিছু বলা যাবে না, তাদের বিরুদ্ধে কিছু করা যাবে না, তাদের ধরা যাবে না, স্পর্শও করা যাবে না।
বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে এনসিপির এই নেতা বলেন, "বিএনপি সরকার সবকিছুর ঊর্ধ্বে, তাদের কোনো জবাবদিহি নেই।" তিনি ঘোষণা করেন যে, সেই অসম্ভবকে আবারও সম্ভব করতে তারা মাঠে নেমেছেন। "আমরা দেখাতে চাই, বিএনপি সরকারকেও জবাবদিহির আওতায় আনা যায়, তাদের নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে বাধ্য করা যায়।"
তিনি বলেন, "এটি কোনো দলের দাবি নয়। দলমত-নির্বিশেষে ধনী-গরিব সবার দাবি, আমরা পেট ভরে খেতে চাই, সুস্থভাবে বাঁচতে চাই এবং সবকিছু নিজেদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে চাই।"
নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, "আমরা যারা গ্রাম থেকে এসেছি, যাদের মা-বাবা এখনো গ্রামে থাকেন, যারা মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান এবং কখনো দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম না, তাদের কাছে এক টাকাও অনেক মূল্যবান।" তিনি উল্লেখ করেন, "এ কারণেই আমরা যখন বাজারে গিয়ে পণ্য কিনতে চাই, তখন দেখি, সেগুলো আমাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। তাহলে দরিদ্র মানুষের কী অবস্থা হবে? এই পরিস্থিতির প্রতিবাদ জানাতেই আজ আমরা রাজপথে নেমেছি।"
তিনি জানান, ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে মানুষের কাছে যাবেন তারা। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে গণবিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে।
জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, "আমরা চাই না, আপনারা এনসিপিতে যোগ দিন। আপনারা কোন রাজনৈতিক দল করেন, সেটিও আমাদের কাছে বিবেচ্য নয়। আমরা আপনাদের অধিকারের জন্য রাজপথে নেমেছি। নিজেদের অধিকার আদায়ের লড়াই আপনাদেরই করতে হবে। কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি আপনাদের হয়ে এই লড়াই করে দেবে না।"
তিনি আরও বলেন, "নিজেদের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে আপনারা রাজপথে নেমে আসুন। সরকারকে বলুন, আপনারা আমাকে কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই কর্মসংস্থান কোথায়? আপনারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সবকিছু মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকবে। কিন্তু আমরা তার বাস্তবায়ন দেখতে পাচ্ছি না। জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবিতে আজ আমরা রাজপথে নেমেছি। আমাদের সামনে দীর্ঘ লড়াই বাকি। এই লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। জীবন চলে গেলেও এই সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে।"
এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব মো. আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ অন্যরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন