প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানির কর্মীরা যারা সরকারের প্রচলিত পেনশন সুবিধার আওতায় নেই, তাদের সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচির ‘প্রগতি’ স্কিমে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পাশাপাশি ইসলামিক পেনশন ব্যবস্থা চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং পেনশনভোগীর মৃত্যুর পর নমিনির পেনশন সুবিধা পাওয়ার বয়সসীমা ৭৫ বছর থেকে ৮০ বছরে উন্নীত করা হবে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য সর্বজনীন পেনশন তহবিলে সর্বাধিক ১১.৭২ শতাংশ মুনাফা দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের চতুর্থ সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান। তিনি উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিভিন্ন কোম্পানির কর্মীরা সরকারি সিভিল কর্মচারীদের মতো সরাসরি সরকারি পেনশন ও আনুতোষিক সুবিধা পান না। তাদের অবসর-সুবিধা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব চাকরিবিধি ও ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল।
সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচির ‘প্রগতি’ স্কিমের আওতায় এসব কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যদি এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়, তবে সরকারি মালিকানাধীন বিভিন্ন করপোরেশন, কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানের পেনশনবঞ্চিত কর্মীরা সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার আওতায় আসতে পারবেন। তবে, কোন কোন প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা এই সুবিধা পাবেন এবং কিভাবে তা বাস্তবায়ন হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা পরবর্তীতে দেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পরিচালনা পর্ষদ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য সর্বজনীন পেনশন তহবিলে ১১.৬৮ থেকে ১১.৭২ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। আগের অর্থবছরে সর্বাধিক মুনাফার হার ছিল ১১.৬১ শতাংশ। সুরাতুজ্জামান জানান, তহবিলের বিনিয়োগ কার্যক্রম, আয়-ব্যয় ও আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে। ইসলামিক পেনশন কর্মসূচির জন্য নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও স্থানীয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করছে। নির্বাহী চেয়ারম্যান জানান, ইসলামিক পেনশন ব্যবস্থার জন্য পৃথক বিধিমালা প্রণয়ন করা হবে।
সভায় ৫৫ বছর বয়স থেকে পেনশন সুবিধা চালুর একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করা হলেও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বিষয়টি একচুরিয়াল বিশ্লেষণ ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা পর্যালোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সুরাতুজ্জামান বলেন, স্পেনে ৬৭ বছর এবং যুক্তরাজ্যে ৬৬ বছর বয়স থেকে পেনশন সুবিধা দেওয়া হয়। বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ক্রমাগত বাড়ছে। তাই আর্থিক সক্ষমতা ও জনমিতিক বাস্তবতা বিবেচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নমিনির সুবিধা ৮০ বছর পর্যন্ত
পেনশনভোগীর মৃত্যুর পর তাঁর মনোনীত স্বামী বা স্ত্রী পেনশন সুবিধা পাওয়ার বয়সসীমা ৭৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ৮০ বছর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পর্ষদ। নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, এতে পরিবারভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা আরো শক্তিশালী হবে এবং দীর্ঘ মেয়াদে পেনশনভোগীদের পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা বাড়বে।
‘এক্সিট প্ল্যান’ ও ঋণ সুবিধা পর্যালোচনায় পেনশন কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পাঁচ বছর পর অংশগ্রহণকারী যেন জমাকৃত অর্থ তুলে নিয়ে কর্মসূচি থেকে বের হয়ে যেতে পারেন—এমন একটি ‘এক্সিট প্ল্যান’ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। পেনশন তহবিল থেকে অংশগ্রহণকারীদের ঋণ দেওয়ার প্রস্তাবও পর্যালোচনার জন্য রাখা হয়েছে।
স্বাস্থ্যবীমা চালুর উদ্যোগ
সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচির সঙ্গে স্বাস্থ্যবীমা সুবিধা যুক্ত করার সম্ভাবনাও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। কোন মডেলে এটি চালু করা হবে এবং এর ফলে তহবিলের ওপর কী ধরনের আর্থিক প্রভাব পড়তে পারে, তা বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ ছাড়া মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে পেনশন সুবিধা সমন্বয়ের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। তবে তহবিলের আকার আরো বড় হওয়ার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
প্রবাসীদের জন্য নতুন উদ্যোগ
বিদেশগামী কর্মীদের সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে বিদেশে যাওয়ার আগেই তাঁদের এ কর্মসূচি সম্পর্কে অবহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কাজে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সহযোগিতা করবে। অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়াতে মোবাইল ফিন্যানশিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে এককালীন নিবন্ধন ফি ১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ টাকা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন