প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কিশোরগঞ্জের নিকলি ইউনিয়নের দুর্গম হাওরগ্রাম গোড়াদিঘা অবস্থিত। এখানে নৌকাই যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কয়েক মাস পূর্বে, গ্রামের অনেক নারী ও কিশোরী স্যানিটারি ন্যাপকিনের নাম জানতেন না। মাসিকের সময় পুরোনো কাপড় ও তুলা ব্যবহারের ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ার ঘটনা ঘটছিল অনেকের ক্ষেত্রে।
এই অবস্থার প্রেক্ষিতে মাসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে ‘নিরাপদ পিরিয়ড, সবার অধিকার’ শীর্ষক একটি উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। সান কমিউনিকেশনস লিমিটেডের পরিকল্পনায়, ওএনজেড সলিউশনসের সহযোগিতায় এবং স্টেসেইফ স্যানিটারি ন্যাপকিনের উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
হাওর এলাকার বাস্তবতা বিবেচনা করে নৌকাকে ব্যবহার করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করা হয়। গ্রামের নারীদের একত্রিত করে বিশেষ মেলার আয়োজন করা হয়। সেখানে তিনটি নৌকায় নারীদের মাসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে চিকিৎসা পরামর্শ প্রদান করা হয় এবং বিনামূল্যে তিন মাসের স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণ করা হয়।
স্থানীয় ফার্মেসির মালিক ও কর্মীদের মাসিক স্বাস্থ্য এবং স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারের বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। একইসাথে, স্কুলে সচেতনতামূলক ক্লাস, উঠান বৈঠক এবং বিভিন্ন বিনোদনমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে কিশোরীদের বিষয়টি সম্পর্কে জানানো হয়।
উদ্যোক্তারা জানান, দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে স্থানীয়ভাবে ‘স্টেসেইফ গার্ল’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নারীরা বিনামূল্যে ন্যাপকিন সংগ্রহ করতে পারবেন এবং পরবর্তীতে স্বল্পমূল্যে তা পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
কর্মসূচির কয়েক মাস পর স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গোড়াদিঘায় মাসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কিশোরী স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। স্থানীয় ফার্মেসিতেও এখন ন্যাপকিন পাওয়া যাচ্ছে।
গোড়াদিঘার এক স্কুলছাত্রী ইসমা জানায়, আগে মাসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে তাদের তেমন ধারণা ছিল না। সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে তারা এখন বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পেরেছে।
আরেক শিক্ষার্থী কাজেফা আক্তার জানায়, আগে মাসিকের সময় কাপড় ব্যবহার করলেও এখন স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন হয়ে ন্যাপকিন ব্যবহার করছে তারা।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আবদুল মোতালিব বলেন, আগের তুলনায় গ্রামের নারীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। পল্লী চিকিৎসক আনোয়ার হোসেনও জানান, মাসিক ও স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারের বিষয়ে এখন অধিকাংশ নারী আগের চেয়ে বেশি সচেতন।
স্টেসেইফের হেড অব মার্কেটিং নয়ন রায় বলেন, প্রত্যন্ত এলাকার নারীদের কাছে শুধু পণ্য পৌঁছে দেওয়া নয়, মাসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি সচেতনতা তৈরি করাই তাদের লক্ষ্য।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন