প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দীঘিনালা জোন। একই সঙ্গে উপজেলার নয়টি পূজামণ্ডপের আয়োজক কমিটির হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দীঘিনালা জোনে এ মতবিনিময় ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মো. আলআমিন, এসইউপি, পিএসসি উপস্থিত থেকে নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেন।
সভায় দীঘিনালা জোনের উপঅধিনায়ক মেজর শিহাবুন সাকিব রুশাদ, পিএসসি, জোনের অন্যান্য কর্মকর্তা, উপজেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি, পুলিশ, আনসার ও ভিডিপির প্রতিনিধি, নয়টি পূজামণ্ডপের পরিচালনা কমিটির প্রতিনিধি, পাঁচ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাসহ প্রায় ৫০ জন অংশ নেন।
মতবিনিময় সভায় পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দ্রুত সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। পূজা চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন সংস্থার পারস্পরিক সমন্বয়ের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আলোচনা শেষে জোন কমান্ডার উপজেলার নয়টি পূজামণ্ডপ পরিচালনা কমিটির প্রতিনিধিদের হাতে নগদ অর্থ সহায়তা তুলে দেন।
জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মো. আলআমিন বলেন, “ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। দুর্গাপূজা যেন সবাই শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন করতে পারেন, সে বিষয়ে দীঘিনালা জোন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, পূজার সময় দীঘিনালা জোনের পক্ষ থেকে নিয়মিত টহল পরিচালনার মাধ্যমে প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। সেনাবাহিনীর পাশাপাশি পুলিশ, আনসারসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন।
সভায় উপস্থিত পূজামণ্ডপের প্রতিনিধিরা নিরাপত্তা প্রস্তুতি ও আর্থিক সহায়তার জন্য দীঘিনালা জোনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তারা আশা প্রকাশ করেন, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে এবারের দুর্গাপূজাও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে।
আঃ হামিদ মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:
ফসল ঘরে তোলার অপেক্ষায় ছিলেন কৃষকেরা। বাগানে ছিল মাসের পর মাসের শ্রম, বিনিয়োগ আর স্বপ্ন। কিন্তু বুধবার দুপুরের কয়েক মিনিটের আকস্মিক ঝোড়ো হাওয়ায় সেই স্বপ্নের বড় অংশই যেন মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। টাঙ্গাইলের মধুপুরের পাহাড়ি এলাকার শোলাকুড়ী, ফুলবাগচালা, অরণখোলা, ভুটিয়া ও কুড়াগাছাসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কলা, আনারস, পেঁপে ও সবজির বাগান। বিশেষ করে কলাগাছ ভেঙে ও উপড়ে পড়ায় বিপাকে পড়েছেন শত শত কৃষক।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে হঠাৎ প্রবল বাতাসসহ ঝড় শুরু হলে মুহূর্তের মধ্যে বিভিন্ন এলাকার বাগান লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। কোথাও কলাগাছের মাজা ভেঙে গেছে, কোথাও পুরো গাছ উপড়ে পড়েছে। পাশাপাশি আনারস, পেঁপে ও বিভিন্ন ধরনের সবজির ক্ষেতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মধুপুর উপজেলা কৃষি অফিসের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, উপজেলার শোলাকুড়ী, ফুলবাগচালা, অরণখোলা, ভুটিয়া ও কুড়াগাছা এলাকায় প্রায় ২৭ হেক্টর কলা এবং ২৬ হেক্টর পেঁপের বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আনারস ও বিভিন্ন সবজি বাগানের ক্ষয়ক্ষতির হিসাবও সংগ্রহ করা হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মমতাজ বেগম মুঠোফোনে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে শোলাকুড়ী, ফুলবাগচালা, অরণখোলা, ভুটিয়া ও কুড়াগাছা এলাকায় ২৭ হেক্টর কলা এবং ২৬ হেক্টর পেঁপের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।’
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, দীর্ঘদিনের শ্রম, অর্থ ও পরিচর্যার পর বাগানগুলোতে ফসল ঘরে তোলার সময় ঘনিয়ে এসেছিল। অনেক কৃষক ধারদেনা ও সঞ্চয়ের টাকা বিনিয়োগ করেছেন কলা, আনারস ও পেঁপে চাষে। কিন্তু আকস্মিক ঝড়ে এক নিমিষেই তাদের সেই বিনিয়োগ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
হরিণধরা গ্রামের কৃষক আবু সায়েম হোসেন বলেন, ‘জীবনের প্রায় অর্ধেক পুঁজি আনারস ও কলাবাগানে ব্যয় করেছি। ফসল ভালো হলে পরিবারের অনেক প্রয়োজন মেটানোর আশা ছিল। কিন্তু হঠাৎ ঝড়ে সবকিছু যেন মুহূর্তের মধ্যে শেষ হয়ে গেল।’
কৃষকদের ভাষ্য, একটি কলাগাছ ভেঙে পড়া শুধু একটি গাছের ক্ষতি নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে কৃষকের শ্রম, ঋণ, বিনিয়োগ, পরিবারের ব্যয় এবং ভবিষ্যতের প্রত্যাশা। ফলে বাগানের ব্যাপক ক্ষতি তাদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির পাশাপাশি সরকারি সহায়তা ও কৃষি বিভাগের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দাবি করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত বাগান পরিদর্শন করে পুনরায় চাষাবাদে সহযোগিতা এবং প্রয়োজনীয় কৃষি-প্রযুক্তিগত পরামর্শ দেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
হঠাৎ ঝড়ে বাগান হারিয়ে এখন দিশেহারা কৃষকেরা। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত সরকারি সহায়তা না পেলে এই ক্ষতি কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানো অনেক কৃষকের পক্ষেই কঠিন হয়ে পড়বে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন