প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
খালেদা জিয়ার যোগ্য সহযোদ্ধা ছিলেন আবদুস সালাম তালুকদার’বক্তারা বলেছেন, ‘নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, গণ-অভ্যুত্থান এবং সুষ্ঠু নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনে বেগম খালেদা জিয়ার যোগ্য সহযোদ্ধা ছিলেন আবদুস সালাম তালুকদার। তিনি সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির আয়োজনে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত আলোচনাসভায় বিএনপির সাবেক মহাসচিব ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদারের ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বক্তারা এ কথা তুলে ধরেন। জামালপুর সমিতি, ঢাকার উদ্যোগে ‘সালাম তালুকদার : নেতা ও মানুষ’ শিরোনামে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। বিশেষ অতিথি হিসেবে জামালপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম উপস্থিত ছিলেন।প্রধান আলোচক ছিলেন সমিতির মহাসচিব ও ক্যান্সার প্রতিরোধ আন্দোলনের পথিকৃৎ অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন।প্রধান আলোচক তাঁর বক্তব্যে বলেন, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, গণ-অভ্যুত্থান এবং সুষ্ঠু নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনে বেগম খালেদা জিয়ার যোগ্য সহযোদ্ধা ছিলেন আবদুস সালাম তালুকদার। সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর গৃহবধূ বেগম খালেদা জিয়া যখন বিএনপির চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন স্বৈরাচারী এরশাদের নানা প্রলোভনে দলের বড় নেতারা তাকে ছেড়ে যাচ্ছিলেন। সেই সময় ব্যারিস্টার সালাম তালুকদারকে মহাসচিবের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছিল, যিনি ছিলেন সবচেয়ে যোগ্য ও আস্থাভাজন।তিনি এই আস্থার মর্যাদা রেখেছেন। তাঁর গভীর দেশপ্রেম, প্রশ্নাতীত সততা, উন্নত শিক্ষা ও মননশীলতা, মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধ তাঁকে একজন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে জনমনে বিশেষ অবস্থানে অধিষ্ঠিত করেছে।ডা. রাসকিন কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন, কিভাবে তিনি নিজের চিকিৎসক হওয়ার পাশাপাশি অর্থবিত্তের পেছনে না ছুটে ক্যান্সার প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলনের সংগঠক হিসেবে কাজ করেছেন এবং ঢাকা ও দিনাজপুরে অলাভজনক সেবামূলক ক্যান্সার হাসপাতাল গড়ে তোলার উদ্যোগে শামিল হয়েছেন।সভায় মাহমুদুর রহমান মান্না মন্তব্য করেন, রাজনীতিতে ক্ষমতার দাপট দেখানোর জন্য মানুষের অভাব নেই, কিন্তু নীতি ও আদর্শের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো প্রজ্ঞাবান মানুষের বড় অভাব রয়েছে। ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদার ছিলেন এমনই একজন বিরল রাজনীতিবিদ, যিনি ক্ষমতার ভেতরে থেকেও বিনয়ী থাকতে জানতেন এবং দলের সংগঠনকে সুসংগঠিত রাখতে নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন।নব্বইয়ের আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা ও প্রতিপক্ষের প্রতি সৌজন্যবোধ আজকের রাজনীতিতে একটি বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম বলেন, ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদার কেবল জামালপুর বা বিএনপির নেতা ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন এ দেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রের অভিভাবক। ব্যক্তিগতভাবে তাঁর কাছে তিনি এক বটবৃক্ষের মতো ছিলেন, যার ছায়াতলে থেকে দেশপ্রেম ও রাজনীতির আসল পাঠ গ্রহণ করেছেন। তিনি দেখিয়ে গেছেন, ক্ষমতার শীর্ষ পর্যায়ে থেকেও কিভাবে মাটির কাছাকাছি থাকা যায় এবং মানুষের মন জয় করা যায়। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করেই তিনি নিজেকে দেশ ও জনগণের কল্যাণে নিয়োজিত করতে চান।এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন সমিতির সহসভাপতি আফজাল খান, সহসভাপতি ও সাবেক মহাসচিব মো. নজরুল ইসলাম, সহসভাপতি সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী মো. মুজিবুর রহমান, আবু বকর সিদ্দিক, হাসিনুর রহমান চৌধুরী, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. হাসানুজ্জাম শিবলী, অবসরপ্রাপ্ত মেজর আব্দুর রব ও ছাত্রদল নেতা আরিফুল ইসলাম। সভাটি সঞ্চালনা করেন সমিতির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবীর আকন্দ। সভার শেষে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন