প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ১২ আগস্ট, ২০২৬ : নাগরিক সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এবং প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে কেরানীগঞ্জ উপজেলাকে দুটি পৃথক উপজেলায় রূপান্তরিত করার লক্ষ্যমাত্র গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ দুপুরে কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ গণশুনানির আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে সরকারের দেওয়া সুযোগ-সুবিধা সহজীকরণের জন্য জাতীয় সংসদীয় আসন (ঢাকা-২ ও ঢাকা-৩) অনুযায়ী কেরানীগঞ্জকে দুটি আলাদা উপজেলায় বিভক্ত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন স্থানীয় জনগণ।
গণশুনানিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমান উল্লাহ আমান। অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসন, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, আইনজীবী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের জনগণ অংশগ্রহণ করেছেন।
আমান উল্লাহ আমান এমপি বলেন, ‘নাগরিক সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের বিকল্প নেই। কেরানীগঞ্জের বিশাল আয়তন ও বিপুল জনসংখ্যার কথা চিন্তা করে প্রশাসনিক কার্যক্রমের গতিশীলতা বাড়াতে ২০১০ সালের সময়কালেই তৎকালীন সরকার প্রধানের কাছে এটি দুই ভাগে ভাগ করার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু ১৭ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই প্রস্তাব বাস্তবায়ন হয়নি।’
জনগণের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি নতুন দুটি উপজেলার সুনির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানার প্রস্তাব তুলে ধরেন। কেরানীগঞ্জ মডেল উপজেলার (ঢাকা-২ আসন) আওতায় কালিন্দী, বাস্তা, শাক্তা, রোহিতপুর, তারানগর, কলাতিয়া এবং হযরতপুর—এই ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠন করা হবে।
এদিকে, কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ উপজেলার (ঢাকা-৩ আসন): জিনজিরা, আগানগর, শুভাঢ্যা, তেঁঘুরিয়া এবং কোন্ডা—এই ৫টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ উমর ফারুক বলেন, ‘গণশুনানিতে সর্বস্তরের মানুষের মতামত ও যুক্তিকে গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের এই যৌক্তিক দাবি খুব দ্রুত একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব আকারে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে।’
এছাড়া, কেরানীগঞ্জ উপজেলার মাসিক সাধারণ সভা ও মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়।
এতে আলোচনা করা হয় উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদকবিরোধী অভিযান, শিক্ষার মান উন্নয়ন, সড়ক নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধি, ভূমি জরিপ এবং ব্যবস্থাপনা, বিদ্যুৎ সমস্যা সহ নানা বিষয়ের ওপর।
সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা তাঁদের নিজ নিজ দপ্তরের কাজের অগ্রগতি ও জবাবদিহিতা তুলে ধরেন এবং সভায় উত্থাপিত সমস্যা দ্রুত সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন