প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনের পিছনে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রশ্রয় ছিল বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে, নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের অন্যতম আসামির সঙ্গে কার কী ধরনের যোগসাজশ ছিল, এই প্রশ্নের উত্তরে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, প্রথমত মোজাফফর হোসেন দীর্ঘ সময় পলাতক ছিলেন। যদিও তিনি প্রয়াত রাষ্ট্রপতি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তথাপি তিনি এক দেশ থেকে আরেক দেশে অবাধে যাতায়াত করতেন। বাংলাদেশের ভেতরেও নির্বিঘ্নে চলাফেরা করতেন। তৎকালীন (আওয়ামী লীগ) সরকারের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার জন্য তিনি বাংলাদেশে টেলিফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখতেন। তিনি অভিজাত অঞ্চলে থাকতেন। সরকারের প্রশ্রয় বা সংশ্লিষ্টতা না থাকলে, উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার সম্পর্ক কিভাবে রক্ষা করতেন, তা অনুমান করা প্রয়োজন। আমরা মনে করি তৎকালীন সরকারের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল, যার মাধ্যমে মোজাফফর হোসেন মানবতাবিরোধী অপরাধে অংশ নেন। তার সঙ্গে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর মতো দুষ্কৃতকারীদেরও সুসম্পর্ক ছিল।
অভিযোগের বিষয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় মোজাফফরের বিচার সেনা আইনে হবে। আমাদের তদন্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের সম্পর্কীয়, তাই এর সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা দেখবো আওয়ামী লীগ সরকারের ১৬ বছরের কর্মকাণ্ডে তার কী সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। অর্থাৎ আমাদের বিচারের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণরূপে আলাদা। তবে মোজাফফর সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে থাকবে। আমাদের প্রয়োজন হলে তাকে সেখান থেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ট্রাইব্যুনালের প্রচলিত আইনে বিচার চলবে।
পাশাপাশি, চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ফেনীতে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। একই সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদিনের অনুমতি প্রদান করা হয়েছে।
এ আদেশ প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল দ্বারা জারি করা হয়।
গত ২১ জুলাই, প্রসিকিউশন তার বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট চেয়ে আবেদন করে। এর ধারাবাহিকতায় মোজাফফরকে আজ সকালে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন