প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব এবং বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী মন্তব্য করেছেন যে, সাংবাদিকতার কাজ হচ্ছে সত্য খুঁজে বের করা এবং সেই সত্যকে রক্ষা করা। তিনি উল্লেখ করেন, "সত্য না থাকলে আস্থা থাকে না, আর আস্থার অভাব হলে গণতন্ত্র থাকে না।"
মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় রাতে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাব আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এই বক্তব্য দেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপলক্ষে বাংলাদেশ থেকে নিউইয়র্কে আসা সাংবাদিকদের সঙ্গে স্থানীয় সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, "সাংবাদিকতা সত্যের আরাধনা। এখানে মিথ্যা বা অর্ধসত্যের কোনো স্থান নেই।" তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে আপসের সুযোগ নেই এবং সংবাদমাধ্যম দেশের জনগণ ছাড়া কারও কাছে দায়বদ্ধ নয়। তিনি বলেন, "কালোকে কালো আর সাদাকে সাদা বলাই সাংবাদিকতার মূলমন্ত্র।"
কাদের গনি চৌধুরী মন্তব্য করেন, "দাসত্বের সাংবাদিকতা" মানুষ ঘৃণা করে। তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে অনেক সাংবাদিককে দাসত্বের সাংবাদিকতা করতে দেখা গেছে। এর ফলে ফ্যাসিবাদী শাসন দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে এবং সাংবাদিকদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে।
৫ আগস্ট ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, যারা দীর্ঘদিন দলীয় ব্যানারের আড়ালে সাংবাদিকতা করেছেন এবং ক্ষমতার সঙ্গে আঁতাত করে জনগণের স্বার্থ বিসর্জন দিয়েছেন, তারা শেষ পর্যন্ত জনগণের রোষানল থেকে বাঁচতে পারেননি। কেউ দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন, কেউ হত্যা মামলার আসামি হয়ে কারাগারে গেছেন, এবং অনেকে এখনো পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
তিনি বলেন, এই বাস্তবতা দেখিয়েছে যে, সাংবাদিকতা দলীয় ব্যানারের ভিত্তিতে টিকে থাকতে পারে না। জনগণের আস্থা হারানো মানে সাংবাদিকতার মৃত্যু। সাংবাদিকতা কোনো মুনাফাভিত্তিক ব্যবসা নয়, এটি একটি সম্মানের পেশা।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকতার পথ কখনো সহজ বা মসৃণ ছিল না। বর্তমানে গণমাধ্যমে যে অনুকূল পরিবেশ বিরাজ করছে, তা অব্যাহত থাকলে সাংবাদিকেরা আরো বেশি সত্য তুলে ধরতে পারবেন। তবে তিনি সতর্ক করেন যে, যা ইচ্ছা তা লিখলেই সাংবাদিকতা হয় না। "যা মুখে আসে, তা বলাই বাক্স্বাধীনতা নয়।" স্বাধীনতার পাশাপাশি সাংবাদিকদের দায়িত্বশীলতার বিষয়টিও মনে রাখতে হবে।
গণমাধ্যমের সংখ্যা দ্রুত বাড়ার প্রসঙ্গে বিএফইউজের মহাসচিব বলেন, অধিকাংশ গণমাধ্যমের প্রাতিষ্ঠানিকতা নেই। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পরিবর্তে ব্যবসায়ীসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে হয়রানি ও ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। মোবাইল ফোন হাতে নিয়েই অনেকে সাংবাদিক পরিচয় দিচ্ছেন। এর ভয়াবহতা থেকে কেউই নিরাপদ নয়।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করেও সামাজিকভাবে মানুষকে হেয়প্রতিপন্ন করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। কাদের গনি চৌধুরী বলেন, এসব বন্ধে আইনের সঠিক প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। অপসাংবাদিকতা ও হয়রানি রোধে আইনের যথাযথ ব্যবহার করতে হবে। তবে আইন যেন অপব্যবহার না হয়, সেদিকেও সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি ‘নো ওয়েজবোর্ড, নো মিডিয়া’ নীতিমালা কার্যকর করার দাবি জানান। কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ওয়েজবোর্ড অনুযায়ী বেতন দিতে হয় না বলেই অসংখ্য ভুঁইফোড় গণমাধ্যম গড়ে উঠছে। এসব গণমাধ্যমের ক্ষেত্রেও ওয়েজবোর্ড বাধ্যতামূলক করা হলে অপসাংবাদিকতা অনেকাংশে কমে আসবে।
তিনি মন্তব্য করেন, এসব গণমাধ্যমের তথাকথিত সাংবাদিকদের একটি অংশ চাঁদাবাজি করছে এবং সাংবাদিকতার পরিচয়কে অপব্যবহার করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে সাংবাদিকতার মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
কাদের গনি চৌধুরী সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও চাকরির নিশ্চয়তার দাবি জানান। তিনি বলেন, তারা সাংবাদিক সুরক্ষা আইনের দাবি জানাচ্ছেন। সরকারি কর্মকর্তারা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও ছুটি পেলেও সাংবাদিকদের কর্মপরিবেশ ও ছুটির বিষয়টি এখনো যথাযথভাবে নিশ্চিত হয়নি।
তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময়ে সাগর-রুনিসহ অনেক সাংবাদিক হত্যার শিকার হয়েছেন। কথায় কথায় সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুত করা হয়। সাংবাদিকেরা জনগণের নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে কথা বললেও কর্মক্ষেত্রসহ কোথাও তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত নয়। একই সঙ্গে চাকরির নিশ্চয়তাও নেই।
বিএফইউজের মহাসচিব সাংবাদিক সমাজের বিভাজন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের মধ্যে বিভাজনের কারণে তারা দুর্বল হচ্ছেন। সরকার ও মালিকেরা এর সুযোগ নেন।
কাদের গনি চৌধুরী সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সাংবাদিক সমাজ ঐক্যবদ্ধ হলে গণমাধ্যমের অনেক সমস্যা দূর করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সাংবাদিকেরা আরো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।
নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি মনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— নুরুল আলম রোকন, সাঈদ তারেক, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, আবু রুশদ, ফরিদ আলম, গাউছুল আজম বিপু, কেরামত উল্লাহ বিপ্লব, আরিফুল ইসলাম মামুন, মঈনুদ্দীন নাসের, মমিনুল ইসলাম মজুমদার, ওয়াহেদ খান, এবিএম সালেহ উদ্দিন, সিরাজুল ইসলাম ও ডা. সারোয়ার ইসলাম।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন