প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা তার ৮১তম জন্মদিনের সবচেয়ে বড় উপহার হিসেবে নির্বাচনে জয় লাভ করেছেন। জন্মদিনের দুদিন আগে তিনি ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নজিরবিহীন চতুর্থ মেয়াদে নির্বাচিত হয়েছেন। আজ ৮১তম জন্মদিন উদযাপনের আনন্দের পাশাপাশি, ব্রাজিলের শাসনের চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে।
লুলার সামনে অন্তত চারটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এগুলো হলো একটি বিভক্ত ব্রাজিল, একটি বৈরী কংগ্রেস, দুর্বল রাষ্ট্রীয় অর্থনীতি এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করার কৌশলই নির্ধারণ করবে ব্রাজিলের ভবিষ্যৎ।
রবিবারের নির্বাচনে লুলা ৫১.৭ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারো ৪৮.২ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। এই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ফলাফল প্রমাণ করে যে, রাজনৈতিক বিভাজন ব্রাজিলকে এক দশক ধরে টুকরো করে রেখেছে এবং এটি আরও দেখায় যে, অভ্যুত্থানের চেষ্টার দায়ে কট্টর ডানপন্থী নেতার ২৭ বছরের কারাদণ্ড হওয়ার পরও ‘বলসোনারিজম’ এখনো শক্তিশালী।
বর্তমান মেয়াদের মতো এবারও কংগ্রেসে লুলার একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকবে না। এই মাসের শুরুর দিকে অনুষ্ঠিত আইনসভা নির্বাচনে ডানপন্থীদের শক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। বলসোনারোর লিবারেল পার্টি ৫১৩ জন ডেপুটির মধ্যে ১২১টি এবং ৮১ জন সিনেটরের মধ্যে ২৮টি আসন নিয়ে প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়েছে। লুলাকে তার প্রস্তাবগুলো পাস করার জন্য ‘সেন্ট্রাও’-এর ওপর নির্ভর করতে হবে। এটি হলো কেন্দ্র-ডানপন্থী দলগুলোর একটি ব্লক, যারা সাধারণত ক্ষমতায় যেই থাকুক না কেন, তাকে সমর্থন দিয়ে থাকে।
কিন্তু রিও ডি জেনেরিও ফেডারেল ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মায়রা গৌলার্টের মতে, তাদের সাথে আলোচনা করা দিন দিন আরো কঠিন হয়ে উঠছে। তিনি এএফপি-কে বলেছেন, আইনপ্রণেতারা এখন ফেডারেল বাজেটের একটি বড় অংশের ভাগ্য নির্ধারণ করেন, যা তাদের নির্বাহী বিভাগের কাছ থেকে আরো বেশি স্বাধীনতা দেয়।
গেটুলিও ভার্গাস ফাউন্ডেশন-এর অর্থনীতিবিদ মাউরো রচলিন এএফপি-কে বলেছেন, ’অর্থনৈতিক দিক থেকে, ব্রাজিলের তিনটি বড় সমস্যা হলো— আর্থিক সমস্যা, আর্থিক সমস্যা এবং আর্থিক সমস্যা।’ এই বাস্তবতা হলো, রাষ্ট্র যা আয় করে, তা ব্যয় করে তার চেয়ে অনেক বেশি। সরকারি ঋণ জিডিপির ৮০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে এবং ব্রাজিলের কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ সুদের হার বজায় রাখছে। রচলিন বলেন, ’এই পরিস্থিতি খুব দ্রুত অর্থনৈতিক সংকটে রূপ নিতে পারে।’
তার মতে, এই অবস্থার সমন্বয় বা সংস্কার করা অনিবার্য, কিন্তু কঠিন। কারণ এর সাথে অপ্রীতিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ এবং কংগ্রেসের ভেতরে থাকা অত্যন্ত শক্তিশালী লবিগুলোর মুখোমুখি হওয়ার বিষয় জড়িত রয়েছে। এই চ্যালেঞ্জটি লুলার প্রধান সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মসূচির সাথে সাংঘর্ষিক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা লাখ লাখ মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দিয়েছে।
নির্বাচনী প্রচারণা জুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে, কারণ সহিংসতা অনেক ব্রাজিলীয় নাগরিকের জন্য একটি বড় দুশ্চিন্তার কারণ। বিরোধীদের পক্ষ থেকে অপরাধের প্রতি নরম মনোভাব দেখানোর অভিযোগ তোলার পর, লুলা এবার ফলাফল দেখানোর জন্য বেশ চাপের মধ্যে থাকবেন; বিশেষ করে বিভিন্ন শহরে রাজত্ব করা অপরাধী চক্র ও মিলিশিয়া বাহিনীকে দমন করার ক্ষেত্রে। নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি বলেছিলেন যে, জঘন্য অপরাধের জন্য ফৌজদারি অপরাধের বয়সসীমা ১৮ থেকে কমিয়ে ১৬ বছর করার পক্ষে তিনি সমর্থন দেবেন। অন্যদিকে রাজনৈতিক ডানপন্থীরা এটি কমিয়ে ১৪ বছর করতে চায়।
ল্যাটিন আমেরিকাজুড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান হস্তক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় লুলা ব্রাজিলের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচারণা চালিয়েছিলেন। ট্রাম্প গত বছর তার মিত্র জাইর বলসোনারোর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ার প্রতিশোধ হিসেবে ব্রাজিলের ওপর শুল্ক আরোপ করেছিলেন, যার ধারাবাহিকতায় এই বছরও কিছু পণ্যের ওপর আরো ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টকে ওয়াশিংটনের সাথে সম্পর্ক এমনভাবে বজায় রাখতে হবে যাতে তার সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী সুর নরম না হয়, বিশেষ করে যখন ট্রাম্প প্রশাসন এই অঞ্চলে ক্রমশ নিজেদের আধিপত্য জাহির করছে।
লাতিন আমেরিকা নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনায় বড় বাধা হয়ে এসেছে লুলার জয়। এরই মধ্যে তিনি ব্রাজিলের নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন