প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
এটি যেন একটি সিনেমার দৃশ্যের মতো। ব্যস্ত সড়কের পাশে অপেক্ষমাণ একটি প্রাইভেটকারের কাছে প্রিজনভ্যান থেকে একজন দুর্ধর্ষ আসামিকে নামিয়ে কিছুদূর হাঁটানো হলো। এরপর পুলিশের একজন কর্মকর্তা নিজেই সেই আসামিকে গাড়িতে তুলে দিলেন। তবে এটি কোনো সিনেমার কাহিনী নয়—ঘটনাটি ঘটেছে রাজধানীর বংশালে।
ঘটনাটি ঘটে গত ২৭ সেপ্টেম্বর, রোববার বিকেল ৫টা ৫৮ মিনিটে। একটি প্রিজনভ্যান বংশালের প্রধান সড়কে উঠেছিল, যেখানে ২৯ জন আসামি ছিলেন। তাদের গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে নেওয়া হচ্ছিল।
বংশাল রোডের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে এসে যানজটে আটকে যায় প্রিজনভ্যানটি। আর তখনই ঘটে চাঞ্চল্যকর ঘটনা।
অভিযোগ উঠেছে, প্রিজনভ্যানের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এসআই প্রবীর কুমার নিজ হাতে ভ্যানটির গেট খুলে দেন। এরপর মুখে মাস্ক পরা অবস্থায় গাড়ি থেকে নামিয়ে আনেন দুর্ধর্ষ আসামি ও শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত পিচ্চি রাজাকে। একই সময়ে গাড়ি থেকে নামেন ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজের মালিক খায়রুল বাসারও।
প্রিজনভ্যান থেকে নেমে পিচ্চি রাজা সামনে হাঁটতে থাকেন। তার পেছনে এসআই প্রবীর কুমার ছিলেন। অন্যদিকে খায়রুল বাসার তাদের সঙ্গে না গিয়ে প্রিজনভ্যানের সামনের অংশে, চালকের পাশের আসনে উঠে বসেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অন্যান্য আসামিদের সঙ্গে গাদাগাদি করে যাওয়ার পরিবর্তে খায়রুল বাসারকে চালকের পাশের আসনে এসির মধ্যে আরাম করে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়। এ সময় পুলিশের একটি দলও সেখানে দায়িত্ব পালন করছিল।
প্রিজনভ্যান থেকে নামার পর পিচ্চি রাজা ও এসআই প্রবীর প্রায় দুই মিনিট বংশালের মোড়ের দিকে হাঁটতে থাকেন। এর মধ্যে সেখানে একটি প্রাইভেটকার নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন পিচ্চি রাজার বোন তাসলিমা।
একপর্যায়ে এসআই প্রবীর নিজেই পিচ্চি রাজাকে ওই প্রাইভেটকারের কাছে নিয়ে যান এবং তাকে গাড়িতে তুলে দেন। এরপর তিনি প্রিজনভ্যানে ফিরে যান।
ঘটনাটি নিয়ে ইতোমধ্যে পুলিশের দায়িত্ব ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার জানিয়েছেন, কী কারণে এমন একজন দুর্ধর্ষ আসামিকে প্রিজনভ্যান থেকে নামিয়ে দেওয়া হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি আরও গভীরভাবে তদন্তের চেষ্টা চলছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ঘটনায় এসআই প্রবীর কুমার ও তার টিমের বিরুদ্ধে শুধু একজন আসামিকে প্রিজনভ্যান থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগই নয়, বরং আরও গুরুতর দায়িত্বহীনতার অভিযোগ উঠেছে।
এর মধ্যে প্রথমটি হলো— ব্যস্ত সড়কে প্রকাশ্যে প্রিজনভ্যানের দরজা খুলে দেওয়া। এতে ভেতরে থাকা অন্য আসামিরাও সুযোগ নিয়ে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পালিয়ে যেতে পারতেন। দ্বিতীয়ত, ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজের মালিক খায়রুল বাসারকে হাতকড়া ছাড়াই কিছু সময়ের জন্য একা ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে, ওই সময় খায়রুল বাসারও যদি পালিয়ে যেতেন, তাহলে তাকে আটকানোর মতো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা পুলিশের হাতে থাকত না।
ফলে একজন দুর্ধর্ষ আসামিকে প্রিজনভ্যান থেকে নামিয়ে ব্যক্তিগত গাড়িতে তুলে দেওয়ার ঘটনাটি শুধু পুলিশের দায়িত্ব পালনের প্রশ্নই তুলছে না, বরং প্রিজনভ্যানে থাকা অন্য আসামিদের নিরাপত্তা ও তাদের পালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন