প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কৃষ্ণ সাগরের বুলগেরিয়া উপকূলের নিকটবর্তী দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে রহস্যজনকভাবে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলার ফলে একটি জাহাজ ডুবে যাওয়ার কারণে ১১ জন নাবিক নিখোঁজ হয়ে গেছেন। বুলগেরিয়া সরকার রুশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করে এ ঘটনায় কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
সিএনএন-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী ‘এইচএস ডিগনিটি’ নামের পণ্যবাহী জাহাজটি ড্রোনের আঘাতে সমুদ্রে তলিয়ে যায়। ১৬ সদস্যের নাবিকদলের মধ্যে ৫ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও সিরীয় ও মিসরীয় নাগরিকসহ বাকি ১১ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
অন্যদিকে, মাল্টার পতাকাবাহী ইউক্রেনীয় মালিকানাধীন ‘চেলসি ৩’ নামের আরেকটি পণ্যবাহী জাহাজ বুলগেরিয়ার বিয়ালা উপকূলের কাছে যাওয়ার সময় তিনটি ড্রোনের আঘাতে বিধ্বস্ত হয়। বুলগেরিয়ার সীমান্ত পুলিশ জানায়, আক্রান্ত জাহাজটির সব নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে সাতজন ইউক্রেনীয় এবং আটজন আজারবাইজানের নাগরিক রয়েছেন। হামলায় আহতদের দ্রুত ভার্না বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। যদিও সুস্পষ্ট প্রমাণ নেই, বুলগেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী রুমেন রাদেভ মন্তব্য করেছেন যে এই হামলার লাভ বা সুবিধা রাশিয়া পাবে। তিনি সার্বিক আলোচনার জন্য দেশে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করেন। তবে রুশ কর্তৃপক্ষ এখনও এই ঘটনার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
বিশ্বনেতারা কৃষ্ণ সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন সরাসরি রাশিয়ার নাম উল্লেখ না করলেও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কৃষ্ণ সাগর এখন ইউক্রেন যুদ্ধের নতুন রণাঙ্গনে পরিণত হয়েছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়। জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ভাডেফুল এই ঘটনার প্রভাবকে বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। অন্যদিকে, ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে জানিয়েছেন, মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তায় পূর্ব সীমান্তে সেনা অবস্থান ইতিমধ্যেই জোরদার করা হয়েছে এবং তারা সমন্বিতভাবে কাজ চালিয়ে যাবে।
ইউক্রেন বিশ্বের অন্যতম প্রধান শস্য রপ্তানিকারক দেশ হওয়ায় এই হামলার পর খাদ্যসংকট নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। রুশ হামলার কারণে ইউক্রেনীয় বন্দরে দেশটি বিকল্প নৌপথ ও দানিউব নদীর ওপর নির্ভরশীল হতে বাধ্য হচ্ছে। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইউক্রেনও রাশিয়ার শস্যবাহী জাহাজে হামলা বাড়িয়েছে, যা পুরো অঞ্চলের সংঘাতকে আরো উসকে দিচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন