প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নারায়ণগঞ্জের বন্দরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগে গুরুতর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। নবজাতকের বাবা হোসেন রয়েল অভিযোগ করে বলেছেন যে, তিনি ক্লিনিকের মালিক ও চিকিৎসক ডা. ময়না বেগমের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য বিভাগ তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। শনিবার দুপুরে আমিন আবাসিক এলাকার স্কুলঘাটসংলগ্ন ময়না ক্লিনিকে এই ঘটনাটি ঘটে।
হোসেন রয়েল অভিযোগে উল্লেখ করেন, ২৩ অক্টোবর সকালে প্রসববেদনা শুরু হলে তাঁর স্ত্রীকে ময়না ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। দুপুরের দিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁদের একটি ছেলে সন্তান জন্ম নেয়। জন্মের পর শিশুটি ক্রমাগত কাঁদতে থাকে, এই বিষয়টি চিকিৎসক ময়না বেগমকে জানানো হলে তিনি বলেন, শিশুটির কোনো সমস্যা নেই।
শনিবার সকালে শিশুটির কান্নার মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসককে ফোন করা হয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে যে, চিকিৎসক ক্লিনিকে এসে শিশুটিকে দেখতে আসেননি। দায়িত্বরত নার্সদেরও ডাকা হলে সাড়া পাওয়া যায়নি, এমনটাই দাবি করেন রয়েল।
রয়েল আরও জানান, শিশুর অবস্থার অবনতি হলে ময়না বেগমের পরামর্শ অনুযায়ী ঝাউতলা এলাকার এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসককে না পেয়ে পুনরায় যোগাযোগ করলে তাঁকে ময়না বেগমের ব্যক্তিগত চেম্বারে এবং পরে ফরাজীকান্দা এলাকার আরেক চিকিৎসকের কাছে যেতে বলা হয়। কিন্তু কোথাও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাওয়া যায়নি। পরে মাতুয়াইল শিশু ও মাতৃ স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন এবং জানান যে, শিশুটি প্রায় এক ঘণ্টা আগে মারা গেছে।
ময়না ক্লিনিকের কর্মকর্তা কাউছার অভিযোগের বিষয়ে বলেন, ‘শিশুটি মারা যাওয়ার আগে সুস্থ ও স্বাভাবিক ছিল। আমরা যথোপযুক্ত চিকিৎসা দিয়েছি। পরিবারকে মায়ের বুকের দুধ ছাড়া অন্য কোনো খাবার না দিতে বলা হয়েছিল। শিশুটির মৃত্যুর কারণ নিয়ে তদন্ত চলছে।’
বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. আলাউল কবির দিপু জানান, ‘সিভিল সার্জনের নির্দেশে ইতোমধ্যে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর বিস্তারিত বলা সম্ভব হবে।’
বন্দর থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, ‘ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এমএইচ
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন