প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
হজ অ্যাসোসিয়েশন এজেন্সিস অব বাংলাদেশের (হাব) কর্মকর্তারা বরাবরই নিষেধ করে আসছেন সৌদি আরবে যাওয়ার জন্য লাইসেন্সবিহীন কোনো এজেন্সির মাধ্যমে। তবুও, লাইসেন্সবিহীন এজেন্সির প্রতারণা থেমে নেই ওমরাহ যাত্রীদের নিয়ে। এমনকি লাইসেন্সধারী এজেন্সিগুলোও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছে।
গত রমজানে, একই পরিবারের ১২ সদস্য ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরব যান। জনপ্রতি এক লাখ ৫৫ হাজার টাকা পরিশোধ করার পর, মদিনাতে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে তারা দেখতে পান যে, কোনো মোয়াল্লেম তাদের জন্য অপেক্ষা করছে না। এমনকি হোটেলে যাওয়ার জন্য নির্ধারিত ট্রান্সপোর্ট সার্ভিসও নেই।
কষ্ট করে গাড়ি ভাড়া করে নির্দিষ্ট হোটেলে পৌঁছানোর পর, ওই ১২ জনের চোখ ছানাবড়া হয়ে যায়। ঢাকার এজেন্সি যে হোটেলের ছবি ও ভিডিও দেখিয়েছিল, বাস্তবে তার সঙ্গে কোনো মিল ছিল না।
মদিনায় সাত রাত কাটিয়ে মক্কায় পৌঁছানোর পর, তারা কিছুটা ভালো হোটেল পেতে সক্ষম হন। কিন্তু সেই হোটেলের অবস্থানও পবিত্র কাবা শরীফ থেকে প্রতিশ্রুত দূরত্বের চেয়ে অনেক বেশি ছিল।
ভুক্তভোগী এক নারী জানান, দুর্ভোগ শুরু হয় মদিনা বিমানবন্দরে। সেখানে গিয়ে তারা কোনো যাতায়াতের বাস পাননি। তাদের সাথে যোগাযোগ করার কোনো উপায় ছিল না, যে হোটেল দেখানো হয়েছিল সেটিও তারা পাননি। একেবারে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়। সমস্যার কোনো শেষ নেই।
ভুক্তভোগী আরেক পুরুষ বলেন, "আমাদের যে সব কথা বলা হয়েছিল, পুরোটাই ভূয়া ছিল। আমাদের তৃতীয় শ্রেণির এক হোটেলে রাখা হয়েছিল। তাদের (এজেন্সি) কথা ছিল ফাইভস্টার হোটেল দেয়ার। অনেক কষ্টে নিজেদের খুঁজে হোটেল বের করতে হয়েছে। সমস্যার কোনো শেষ ছিল না আমাদের। যে টাকা তারা নিয়েছে, তাতে যে সার্ভিস দেয়ার কথা ছিল, তার কিছুই তারা করেনি।"
এখানেই শেষ নয়। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের মধ্যে একের পর এক ফ্লাইট বাতিল হওয়ার পরেও যাত্রীদের জোর করে পাঠানো হয় জেদ্দা বিমানবন্দরে। পরে, তারা নিজেদের অন্য বিমানের টিকেট কেটে পরদিন ঢাকায় ফিরে আসেন।
এদিকে, অভিযুক্ত সেই এজেন্সিটি ধানমন্ডি থেকে অফিস গুটিয়ে চলে গেছে। অন্যদিকে, ভাটারা এলাকার আরেকটি প্রতিষ্ঠান দায় স্বীকার করেছে, যারা মিডিয়া হয়ে কাজটি করেছিল।
হাবও ওমরাহ যাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণার বিষয়টি জানে। হাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহমেদ মজুমদার সময় সংবাদকে বলেন, "লাইসেন্সবিহীন এজেন্সির মাধ্যমে ওমরাহ যাত্রী পাঠানোর সুযোগ রয়েছে। এ কারণে ওইসব এজেন্সির মাধ্যমে মানবপাচার এবং স্বর্ণ চোরাচালানের অভিযোগ রয়েছে। সৌদি আরবে যাওয়া লোকজন বিভিন্ন অপরাধে জড়িত হচ্ছে, ফলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। আমরা সরকারকে অনুরোধ করেছি, যাতে কোনো যাত্রী লাইসেন্সবিহীন কোনো এজেন্সির মাধ্যমে কোথাও যেতে না পারেন, সেটি নিশ্চিত করার জন্য।"
তিনি আরও জানান, কেউ যদি ওমরাহ করতে এজেন্সির দ্বারা প্রতারিত হন, তবে অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন হাব।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন