প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) বেগম খালেদা জিয়া হলের লিফট এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। বর্তমানে ১০ তলা বিশিষ্ট এই হলে প্রায় ৫৪৪ ছাত্রী অবস্থান করছেন। ফলে শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন ক্লাস, খাবারসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাজে দীর্ঘ সিঁড়ি ভেঙে যাতায়াত করতে হচ্ছে। বিশেষ করে, ওপরের তলায় অবস্থানরত ছাত্রীদের চলাচলে ভোগান্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আবাসন সংকট নিরসনের উদ্দেশ্যে নির্মিত এই হলটি ৩৫০ ছাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও এক বছরের মধ্যে আবাসিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে ৫৪৪ জনে দাঁড়িয়েছে। লিফট চালু না থাকায় অসুস্থতা, জরুরি চিকিৎসাসেবা এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনে ওপরের তলা থেকে নিচে নামা-ওঠার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
পশুপালন অনুষদের দ্বিতীয় বর্ষের এবং হলের ৮ম তলায় অবস্থানরত এক শিক্ষার্থী জানান, "ক্লাস শেষে অনেক ক্লান্ত থাকি। এরপর এত ওপরে উঠতে গিয়ে আরও কাহিল হয়ে পড়ি।" তিনি আরও বলেন, "অনেক সময় ক্লাসের ফাঁকে এক থেকে দুই ঘণ্টা বিরতি থাকলেও রুমে ফিরতে পারি না।" তত্ত্বীয় ও ব্যবহারিক ক্লাস দিনে দুই সময়ে হওয়ার কারণে হলে আসা-যাওয়া করতে তাদের অনেক কষ্ট হচ্ছে। ক্যান্টিনও নিচতলায় অবস্থিত, খাবার নিতে নিচতলা পর্যন্ত যেতে হয়, যা তাদের জন্য অনেক কষ্টের। তিনি ক্যান্টিনের খাবারের মানও সন্তোষজনক নয় বলে উল্লেখ করেন।
১০ম তলায় প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থী ভোগান্তির কথা উল্লেখ করে বলেন, "১০ তলায় সিট বরাদ্দ পাওয়ায় অনেক ভোগান্তির শিকার হচ্ছি। একবার ওপরে উঠলে আবার নিচে নামতে ইচ্ছা করে না।" তিনি জানান, এ কারণে অনেক সময় দিনে এক বেলা খাবার খেতে হয়। একবার নিচে নেমে খাবার নিয়ে আসা হয়। সকালের খাবার তো খাওয়াই হয় না। বিশেষ করে শুক্রবার ও শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস বন্ধ থাকায় খাবারের কষ্ট আরও বেশি হয়। রান্না করার সুযোগও নেই, জরুরি পরিস্থিতিতে কিছু রান্না করে খাওয়ার উপায় থাকে না। তাই অনেক সময় না খেয়েই থাকতে হয়।
হলের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, "কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ তলা আবাসিক হলে লিফট নাই এরকম দেখি নাই।" তিনি আরও জানান, লিফটের অভাবে শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবন চরম দুর্ভোগের মুখে পড়ছে। প্রতিদিন সকালে ও বিকালে ক্লাস শেষে এবং অন্তত তিন বেলা খাবারের প্রয়োজনে এই দীর্ঘ সিঁড়ি ভাঙা শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তিনি বলেন, "তবে সবচেয়ে ঝামেলায় আমাদের পড়তে হয় যখন ১০ তলার কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে।" সেক্ষেত্রে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামিয়ে হেলথকেয়ার নিয়ে যাওয়া এবং চিকিৎসা শেষে পুনরায় উপরে তুলে আনা অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। তাই শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার স্বার্থে এমন ভবনে লিফট সুবিধা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
শিক্ষার্থীদের এই উদ্বেগের বিষয়ে জানতে চাইলে হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, "শিক্ষার্থীদের মাঝে এ বিষয়ে উদ্বেগ থাকাটা স্বাভাবিক, এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এটি সমাধানের জন্য অত্যন্ত দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।" তিনি জানান, নতুন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে শিক্ষক ও হাউজ টিউটররা দফায় দফায় মিটিং করেছেন। লিফট স্থাপনের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, "আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে অন্তত একটি লিফট চালু হয়ে যাবে।" লিফট চালু হলে ছাত্রীদের উঠানামার কষ্ট অনেক কমে যাবে। ১০ তলা পর্যন্ত সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করা কতটা কষ্টের এবং অমানবিক তা অভিভাবক ও শিক্ষক হিসেবে তারা গভীরভাবে অনুভব করেন।
লিফট চালুর অগ্রগতি নিয়ে প্রধান প্রকৌশল মুহ. এনামুল হক জানান, খালেদা জিয়া হলের জাপানি প্রযুক্তির নতুন লিফটটির মেশিনসহ এটি স্থাপনের যাবতীয় কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং তিন তলা পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে চালু রয়েছে। কাজ পুরোপুরি শেষ হতে প্রায় এক সপ্তাহ সময় লাগবে। শিক্ষার্থীরাও পরীক্ষামূলকভাবে এটি ব্যবহার করার পর লিফটটি স্থায়ীভাবে চালু করা হবে। আপাতত তারা একটি লিফট চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অন্যান্য লিফটগুলোর যন্ত্রাংশ আসলেও কাজ শুরু হয়নি এবং নিয়মিত সার্ভিসিং বজায় রেখে এটি চালুর বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন