প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন, আন্তঃব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নিলাম এবং গ্রাহক পর্যায়ের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের প্রতিবেদন নতুন বৈদেশিক মুদ্রা বাজার (এফএক্সএম) ব্যবস্থার মাধ্যমে সেপ্টেম্বর থেকে সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
গতকাল সোমবার ৩১ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ ও ট্রেজারি ব্যবস্থাপনা বিভাগের একটি বিজ্ঞপ্তিতে দেশের সকল তফসিলি ব্যাংককে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার নিলাম, আন্তঃব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন এবং গ্রাহক পর্যায়ের লেনদেন যথাযথভাবে সম্পন্ন ও প্রতিবেদন করার জন্য এফএক্সএম ব্যবস্থা চালু করেছে। পূর্বে এসব কার্যক্রম ম্যানুয়ালি সম্পন্ন করা হতো, তবে এখন থেকে এ ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হবে।
এফএক্সএমের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে হস্তক্ষেপমূলক নিলাম, আন্তঃব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের তথ্য সংগ্রহ ও প্রতিবেদন ব্যবস্থাপনা করা হবে। আন্তঃব্যাংক লেনদেনের ক্ষেত্রে স্পট, ফরওয়ার্ড ও সোয়াপ চুক্তি এ ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিলামের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এফএক্সএমে ক্রয় বা বিক্রয় আদেশ দিতে পারবে। নিলামের ফলাফল ও বরাদ্দও একই ব্যবস্থায় জানানো হবে। পরে সংশ্লিষ্ট বৈদেশিক মুদ্রা ও টাকা নিষ্পত্তির কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।
আন্তঃব্যাংক লেনদেনে বিক্রেতা ব্যাংক এফএক্সএমে আদেশ দেবে এবং সংশ্লিষ্ট ক্রেতা ব্যাংক তা গ্রহণ করবে।
পরে উভয় ব্যাংকের ব্যাক অফিসের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা ও টাকা নিষ্পত্তি করা হবে। সোয়াপ লেনদেনের ক্ষেত্রে নিকটবর্তী ও পরবর্তী-দুই ধাপের নিষ্পত্তিও এফএক্সএমের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রা বাজারের তথ্য সংগ্রহ ও রেফারেন্স বিনিময় হার প্রস্তুতের জন্য ব্যাংকগুলোকে প্রতিটি কর্মদিবসে গ্রাহক পর্যায়ের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের তথ্য তিন দফায় জমা দিতে হবে।
প্রথম দফায় সকাল ১১টা পর্যন্ত সংঘটিত লেনদেনের তথ্য সকাল সাড়ে ১১টার মধ্যে এবং দ্বিতীয় দফায় বিকেল ৪টা পর্যন্ত সংঘটিত লেনদেনের তথ্য বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে জমা দিতে হবে। বিকেল ৪টার পর দিনের বাকি সময়ে সংঘটিত লেনদেনের তথ্য পরবর্তী কর্মদিবসের সকাল ১১টার মধ্যে জমা দেওয়া যাবে।
যদি কোনো নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিবেদনযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন না থাকে, তবুও সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে এফএক্সএমে শূন্য প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
রেফারেন্স বিনিময় হার প্রস্তুতের জন্য সাধারণভাবে ১ লাখ মার্কিন ডলার বা তার বেশি পরিমাণের গ্রাহক পর্যায়ের লেনদেনের তথ্য জমা দিতে হবে। তবে প্রবাসী আয় বা মজুরি-ভিত্তিক রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে লেনদেনের পরিমাণ যতই হোক, প্রকৃত লেনদেনের তথ্য জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।
এফএক্সএমে ব্যাংকগুলো নির্ধারিত ছক অনুযায়ী এক্সেল ফাইল আপলোড অথবা পৃথক লেনদেনের তথ্য সরাসরি প্রবেশ করিয়ে প্রতিবেদন দিতে পারবে। তথ্য জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের অনুমোদনকারী কর্মকর্তা তা যাচাই করে অনুমোদন করবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা বাজারের লেনদেন আরো স্বচ্ছ, দ্রুত, সুশৃঙ্খল ও নির্ভুল হবে। একই সঙ্গে লেনদেন পর্যবেক্ষণ, প্রতিবেদন, তথ্য সংরক্ষণ ও নিরীক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। ম্যানুয়াল কার্যক্রম ও প্রক্রিয়াগত সময় কমবে।
এফএক্সএম ব্যবহার সহজতর করতে বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর কর্মকর্তাদের জন্য পৃথক পরিচালন নির্দেশিকাও জারি করেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন