প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি এবং দেশের কিছু জায়গায় সৃষ্ট বন্যার ফলে রাজধানীর কাঁচাবাজারেও জনজীবনের মতো অশান্তির প্রভাব দেখা গেছে। জলাবদ্ধতা এবং সরবরাহের অনুপস্থিতির কারণে এক সপ্তাহের ব্যবধানে অনেক সবজির দাম বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে ডিম ও মাছের দামও বেড়েছে। তবে মুরগির বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা রয়েছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাজধানীর কারওয়ান বাজার ও আশপাশের বিভিন্ন বাজারে গিয়ে এরকম দৃশ্য দেখা গেছে।
বাজারের অভিজ্ঞতা থেকে জানা যায়, গত কয়েকদিনের বৃষ্টির কারণে অনেক জায়গার সবজি সময়মতো রাজধানীতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়নি। ফলে সরবরাহ কমে আসায় প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে কেজিপ্রতি সবজির দামে ৪০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে তারতম্য পরিলক্ষিত হয়েছে।
বর্তমানে কাঁচামরিচের দাম কেজিপ্রতি ১২০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিছু স্থানে এটি ১৮০ টাকারও বেশি বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া শসার দাম ২০০ টাকা, গাজরের দাম ১৬০ টাকা, পটলের দাম ৮০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৮০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, বেগুন ১২০ টাকা এবং কাঁকরোলও ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা মন্তব্য করছেন, গত সপ্তাহের তুলনায় বিভিন্ন সবজির দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা আনিস মিয়া জানান, টানা বৃষ্টির কারণে অনেক এলাকা থেকে সবজি সঠিকভাবে আসছে না। যে পরিমাণ সবজি আসছে, তা চাহিদার তুলনায় কম। তাই পাইকারি বাজারে দাম বেড়ে গেছে এবং খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।
অন্য একজন বিক্রেতা মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, রাস্তায় জলাবদ্ধতার কারণে পরিবহনে সমস্যা দেখা দিয়েছে। অনেক গাড়ি নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাতে পারেনি। যদি সরবরাহ স্বাভাবিক হয় তবে দাম অবশ্যই কমে আসবে।
সবজির বাড়তি দামে ক্রেতাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বাজার করতে আসা রফিকুল ইসলাম জানান, এক সপ্তাহ আগে যে শসার দাম ছিল ১০০ টাকার আশপাশে, সেটি এখন ২০০ টাকা। প্রায় সমস্ত সবজির একই দুর্বিষহ অবস্থা। প্রতি বৃষ্টিতে দাম বাড়ে, কিন্তু তা কমতে অনেকসময় লেগে যায়।
গৃহিণী নাসরিন আক্তার মন্তব্য করেন, বাজার এসে এখন হিসাব করে সবজি কিনতে হয়। পূর্বে চার-পাঁচ প্রকারের সবজি কিনতেন, কিন্তু এখন শুধুমাত্র দুই-তিন প্রকারের সবজি নিয়ে ফিরতে হচ্ছে। সংসার পরিচালনা করা খুব কঠিন হয়ে যায়।
অন্যদিকে, মুরগির বাজারে বড় কোনো পরিবর্তন নেই। সোনালি মুরগির দাম প্রতি কেজি ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকা, ব্রয়লারের দাম ১৮০ টাকা এবং লেয়ার মুরগির দাম ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকার মধ্যে রয়েছে। মুরগির বিক্রেতাগণ জানান, সরবরাহ ও চাহিদা স্বাভাবিক রুপে বাজার স্থিতিশীল রয়েছে।
তবে ডিমের বাজারে আবারও উর্ধ্বগতি পরিলক্ষিত হয়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ডজনে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ টাকায়। অপরদিকে, প্রতি ডজনে ১০ টাকা বেড়ে সাদা ডিম ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ডিমের বিক্রেতা সোলায়মান জানালেন, খামার থেকেই ডিম অধিক দামে আসছে। তাই আমাদেরও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
এদিকে মাছের বাজারেও দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রত্যেক কেজির জন্য রুই মাছ ৩৬০ থেকে ৩৮০ টাকা, কাতলা ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা, চাষের পাঙাশ ১৮০ টাকা, চাষের কৈ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মাছের বিক্রেতাদের মতে, বৃষ্টির কারণে মাছ পরিবহন ও সরবরাহের ক্ষেত্রে কিছুটা সমস্যা সৃষ্টি হওয়ায় কিছু প্রজাতির মাছের দাম বেড়ে গেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন