প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) কোন আয়োজন দেখা যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) এর পক্ষ থেকেও কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়নি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সমালোচনা করেছেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকীর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ দিনেও রাবি ও রাকসুর পক্ষ থেকে কোন উদ্যোগ না নেওয়া সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতার অভাবকে নির্দেশ করে। তাদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন দিবস ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি পালিত হলেও নজরুলকে স্মরণে কোন আয়োজন না থাকায় বিষয়টি হতাশাজনক।
হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার্স সোসাইটির রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আলফাজ উদ্দিন টনিক মন্তব্য করেন, ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকীর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ দিনে রাকসুর পক্ষ থেকে কোনো আয়োজন না থাকাটা সত্যিই হতাশাজনক।
নজরুল শুধু একজন কবি নন, তিনি আমাদের সাম্য, মানবতা ও প্রতিবাদের অনুপ্রেরণা। এমন একজন কবিকে স্মরণ করার দিনেও রাকসুর নীরব থাকা তাদের সাংস্কৃতিক দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে।’
মিনহাজুল ইসলাম নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে নজরুলের সাহিত্য ও দর্শনের প্রতি আগ্রহ রয়েছে। এমন একজন জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকীতে অন্তত আলোচনা সভা, কবিতা পাঠ বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যেত।
রাবি ও রাকসুর মতো প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ না থাকাটা আমাদের জন্য হতাশাজনক।’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) এর পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি জানিয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক জায়িদ হাসান জোহা বলেন, ‘মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কোনো আয়োজন করা হয়নি। তবে আমরা সামনে নজরুলকে নিয়ে বড় একটি প্রোগ্রাম আয়োজন করব।’
এদিকে, এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীণ শিক্ষক এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ সমালোচনা করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা ও ফোকলোর ও সোশাল ডেভলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক আমীরুল ইসলাম কনক মন্তব্য করেন, ‘কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জাতির একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র।
আমাদের চেতনায় ও মননে নজরুল সবসময় বিচরণ করেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানে তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীর আয়োজন থাকা উচিত ছিল। কারণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নজরুলচর্চার সুযোগ ও পরিসরও কম নয়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে নজরুল চেতনা ছড়িয়ে দিতে বেশি বেশি তাকে নিয়ে আলোচনা করা দরকার।’
রাকসুর আয়োজন না করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কেন আয়োজন করল না, সেটা তারাই ভালো বলতে পারবে। তাদের পরামর্শদাতাদের এ বিষয়টি খেয়াল রাখা উচিত ছিল। সমস্ত রাজনৈতিক নীতি-আদর্শের বাইরে গিয়ে রাকসু নজরুলকে নিয়ে আয়োজন করলে জাতির সামনে তাদের গ্রহণযোগ্যতা আরও বৃদ্ধি পেত বলে মনে করি।’
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক এস এম কামরুজ্জামান বলেন, ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী মূলত ২৯ আগস্ট। আজকে সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান আয়োজন করেছে।’
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে কাজী নজরুল ইসলামকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়। পরবর্তীতে ১৯৭৬ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করে। একই বছর ২১ ফেব্রুয়ারি তাঁকে একুশে পদকে ভূষিত করা হয়। তাঁর শেষ ঠিকানা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে। ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সেখানেই সমাহিত করা হয় জাতীয় কবিকে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন