প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতে বিদেশি নাগরিকরা যদি দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে চান তবে এখন থেকে ভিসা ও আইনি নিয়মে পরিবর্তন এসেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন নিয়ম অনুসারে, বিদেশি নাগরিকদের যদি তাদের নির্ধারিত মেয়াদের তুলনায় বেশি সময় ভারতে অবস্থান করতে হয়, তাহলে আগে থেকে নিবন্ধন বা রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে জানা গেছে, সোমবার (১ জুন) কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স রুলস, ২০২৫’ এর ১২ নম্বর বিধিটি সংশোধন করেছে। এই সংশোধিত আইনে বিদেশি নাগরিকদের সন্তানদের জন্য কিছু ছাড়সহ স্থানীয় হাসপাতালগুলোর রিপোর্টিং ব্যবস্থা পরিবর্তন আনা হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ১৮০ দিনের মেয়াদের ভারতীয় ভিসাধারী বিদেশিদের তাদের ১৮০ দিনের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। পূর্বের নিয়মে বিদেশি নাগরিকরা ভারতে আগমনের ১৮০ দিন পূর্ণ হওয়ার পরবর্তী ১৪ দিনের মধ্যে নিবন্ধন করতে পারতেন। এখন এই সময়সীমা কমানো হয়েছে।
এছাড়া, সংশোধিত আইনটি কঠোরভাবে তাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, যাদের মোট ভিসার মেয়াদ ১৮০ দিনের বেশি হলেও একবারে ভারত অবস্থানের সর্বোচ্চ সময়সীমা ১৮০ দিন নিয়ে স্থির করা হয়েছে। এই ধরনের ভিসাধারীরা যদি একনাগাড়ে ১৮০ দিনের বেশি ভারতে থাকতে চান, তবে তাদের নিবন্ধন সোমবার হওয়ার আগে করতে হবে। নয়াদিল্লি সরকারের মতে, এই মাধ্যমে বিদেশিদের ওপর প্রশাসনিক নজরদারি জোরদার করা সম্ভব হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে বিদেশিদের অতিরিক্ত সময় থাকার অনুমতি শুধুমাত্র বিশেষ ‘জরুরি পরিস্থিতিতে’ বিবেচ্য হবে। ফলে অতিরিক্ত সময় থাকার সুযোগ আগের চাইতে অনেক সীমিত হবে।
অন্যদিকে, ভারতে জন্ম নেওয়া বিদেশি নাগরিকদের সন্তানদের জন্য একটি মানবিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগের নিয়ম ছিল, বাবা-মায়ের যেকোনো একজন বা উভয়ই বিদেশি হলে সন্তানের জন্মের ৩০ দিনের মধ্যে নিবন্ধন কর্মকর্তাকে তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এক জন ভারতীয় নাগরিকের সন্তান হলে জন্মের পর তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য জানানো প্রয়োজন হবে না। কেবল সন্তান যদি অন্য দেশে নাগরিকত্ব গ্রহণ করে, তবে তার ৩০ দিনের মধ্যে কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।
এছাড়া, নতুন প্রজ্ঞাপনে ভারতের স্থানীয় হাসপাতাল, নার্সিং হোম এবং চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়মিত রিপোর্টিং প্রক্রিয়ায় কিছু নতুন নিয়ম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে হাসপাতালগুলো যাদের রাত্রিযাপন করার সুবিধা আছে, তাদের জন্য নতুন বিধান কার্যকর হবে। সরকারের পক্ষ থেকে জানা গেছে, এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান ভূমিকা পরিবর্তিত হয়নি, বরং রিপোর্টিং সংক্রান্ত বিধানগুলো আধুনিক করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন