প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
২০০৮ সালের পর থেকে চ্যাম্পিয়নস লিগে জয়ের অপেক্ষা শেষ হলো ফেনেরবাচের। দীর্ঘ ১৮ বছরের বিরতির পর ইউরোপের ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতায় জয় লাভ করল তুরস্কের এই ক্লাব। ইস্তাম্বুলে নিজেদের মাঠে ইংলিশ জায়ান্ট লিভারপুলকে ৩-২ গোলে পরাজিত করে তারা তাদের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছে।
মজার বিষয় হলো, ফেনেরবাচের পূর্ববর্তী জয়টিও এসেছিল ইংলিশ ক্লাবের বিপক্ষে। ২০০৭-০৮ মৌসুমের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে তারা চেলসিকে ২-১ গোলে পরাজিত করেছিল। সেই জয়ের ১৮ বছর পর আবারও ইংলিশ প্রতিপক্ষকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে জয় পেল তুর্কি ক্লাবটি।
লিভারপুলের বিরুদ্ধে ম্যাচের শুরুতে ফেনেরবাচের পারফরম্যান্স ভালো ছিল। তবে ২৫ মিনিটে মিডফিল্ডার ট্রে নিয়োনির গোলে লিভারপুল এগিয়ে যায়। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তাঁর ভলি ফেনেরবাচের এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে গোলরক্ষকের অগোচরে জালে প্রবেশ করে। ১৯ বছর বয়সী নিয়োনির এটি লিভারপুলের জার্সিতে প্রথম গোল।
তবে লিভারপুলের সেই আনন্দ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ২৯ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে সমতা ফেরান মেসন গ্রিনউড। তাঁর শট ফেনেরবাচের খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকারের জন্য কিছুই করার সুযোগ রাখেনি।
বিরতির পর দুই দলের মধ্যে লড়াই চলতে থাকে। ৬৬ মিনিটে লিভারপুল কোচ আন্দোনি ইরাওলা একসঙ্গে তিনটি পরিবর্তন আনেন। মাঠে প্রবেশ করেন ফ্লোরিয়ান ভির্টৎজ, আলেক্সান্দার ইসাক ও কোডি গাকপো। তিন মিনিট পরই তাঁদের যৌথ প্রচেষ্টায় লিভারপুল আবারও এগিয়ে যায়। গাকপোর ক্রস থেকে হেডে গোল করেন ইসাক। এটি লিভারপুলের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে তাঁর প্রথম গোল।
তবে শেষ ১৭ মিনিটে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় ফেনেরবাচ। ৭৩ মিনিটে সমতা ফেরান আর্চি ব্রাউন। ডানদিক থেকে এনগোলো কান্তের বাড়ানো বল বক্সে পেয়ে যান ব্রাউন। কোডি গাকপোর গায়ে লেগে বলের দিক পরিবর্তন হলে তিনি সুযোগ কাজে লাগাতে ভুল করেননি।
এরপর ৭৯ মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন বদলি নামা ভেদাত মুরিকি। ব্রাউনের ক্রসে উঁচুতে লাফিয়ে দুর্দান্ত হেডে বল জালে পাঠান এই কোসোভান স্ট্রাইকার। চ্যাম্পিয়নস লিগে এটিই তাঁর প্রথম গোল।
এই জয়ের মাধ্যমে ফেনেরবাচ ১০ ম্যাচের জয়খরা কাটিয়েছে। অন্যদিকে, চ্যাম্পিয়নস লিগে লিভারপুল এবার চার ম্যাচে ১০ গোল হজম করেছে। সর্বশেষ তিন ম্যাচে প্রতিটি ম্যাচে অন্তত তিনটি করে গোল হজম করেছে ইংলিশ ক্লাবটি।
ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় ক্লাবটির ইতিহাসে টানা তিন ম্যাচে তিন বা তার বেশি গোল হজমের ঘটনা এটি প্রথম। এছাড়া, চ্যাম্পিয়নস লিগে তুরস্কের ক্লাবগুলোর বিপক্ষে টানা পাঁচটি অ্যাওয়ে ম্যাচে হারার অভিজ্ঞতাও তাদের হলো।
তবে লিভারপুল কোচ ইরাওলার জন্য সবচেয়ে হতাশার পরিসংখ্যান হতে পারে অন্যটি। বড় ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় এটি তৃতীয়বার, যখন কোনো ম্যাচে দুবার এগিয়ে থেকেও হারতে হলো দলটিকে। এর আগে ২০১৮ সালে রোমা ও ২০২৫ সালে পিএসভির বিপক্ষে একই অভিজ্ঞতা হয়েছিল লিভারপুলের।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন