প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আন্দোলনের পরের দিনেই কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে নতুন ছয়জন শিক্ষকের পদায়ন ও বদলি করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার সম্মুখীন হয়ে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনায় কলেজটি আলোচিত হয়েছিল। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের গত শুক্রবারের আন্দোলনের পর এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। কলেজে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বদলি করা কয়েকজন শিক্ষক অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। রবিবার (২৬ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-২ শাখা এই বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপনের উপসচিব মো. আ. কুদ্দুস স্বাক্ষরিত পত্রে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হয়ে ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে নতুন আসনে যোগদান করার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মোস্তফা সারওয়ার খানকে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে পদায়ন করা হয়েছে। তিনি পূর্বে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) ওএসডি হিসেবে চৌমুহনী সরকারি সালেহ আহমেদ কলেজে কর্মরত ছিলেন। অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে মোহাম্মদ আশিকুর রহমানের পদায়নও হয়েছে। তিনি মাউশিতে ওএসডি থেকে কুমিল্লার গৌরীপুর মুন্সী ফজলুর রহমান সরকারি কলেজে কর্মরত ছিলেন। নবীনগর সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল মতিনকে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে বদলি করা হয়েছে। গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে মো. খালেদ ইকবাল জুয়েলও পদায়ন পেয়েছেন। তিনি বরুড়া শহীদ স্মৃতি সরকারি কলেজে কর্মরত ছিলেন। ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক হিসেবে পদায়ন লাভ করেছেন ইসরাফুল ইসলাম ভূঁইয়া, যিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি মহিলা কলেজে সংযুক্ত ছিলেন। বরুড়া শহীদ স্মৃতি সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী মো. হাবিব উল্লাহকেও একই পদে বদলি করা হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বদলি হওয়া একাধিক শিক্ষক জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরে নতুন শিক্ষকদের পদায়ন করা হয়েছে এবং বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার সুযোগও নেই। তাদের মতে, জলাবদ্ধতার ঘটনার দায় শিক্ষকদের ওপর চাপানো হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের সাত শিক্ষককে বিভিন্ন সরকারি কলেজে বদলি করা হয়। তাদের মধ্যে কলেজের উপাধ্যক্ষ এ কে এম জহিরুল আলমকে চিওড়া সরকারি কলেজে, গণিত বিভাগের অধ্যাপক মো. আবদুল মালেককে কক্সবাজার সরকারি কলেজে বদলি করা হয়। একাধিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপকের বদলির কথাও বলা হয়েছে। প্রসঙ্গত, কুমিল্লা নগরে জলাবদ্ধতা দীর্ঘদিনের সমস্যা। বছরের পর বছর ধরে একটু বৃষ্টি হলেই নগরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা জনগণের জন্য এক বিরাট দুর্ভোগ হয়ে দাঁড়ায়। ১৩ জুলাই সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত মাত্র তিন ঘণ্টায় কুমিল্লা নগরে ১০৭ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করে আবহাওয়া অফিস। এই অতিভারি বৃষ্টিতে পুরো নগর অচল হয়ে পড়ে। প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি তলিয়ে যায় পানিতে। কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ পরীক্ষাকেন্দ্র এলাকায় পরিস্থিতি ছিল সবচেয়ে বরাদ্দ। ওই দিন সকালে পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যা পরীক্ষা দিতে আসা শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রে পৌঁছাতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন। অনেক শিক্ষার্থীকে ভিজে কাপড়েই কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হয়েছে এবং সেই অবস্থাতেই তিন ঘণ্টা পরীক্ষা দিতে হয়েছে। ফলে কলেজটি সমালোচনার মুখে পড়ে। পরে ওই ঘটনায় সাত শিক্ষককে বদলির সিদ্ধান্ত আসলে, শিক্ষার্থীরা তা প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। তাদের আন্দোলনের পরদিনেই নতুন ছয় শিক্ষককে পদায়নের প্রজ্ঞাপন জারি হল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন