প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুতি বিদ্রোহীদের হামলার পর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে প্রাণহানির ঘটনার পরও বিশ্ব জ্বালানি সম্মেলন অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। তবে নিরাপত্তা ও যাতায়াতের সমস্যা কারণে সম্মেলনে অংশগ্রহণ করছেন না বিশ্বের কিছু বড় জ্বালানি কোম্পানির প্রধান নির্বাহীরা।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রবিবার শুরু হওয়া বিশ্ব জ্বালানি সম্মেলনে (ডব্লিউপিসি) এক্সনমোবিল, টোটালএনার্জিস, শেল, শেভরন ও বিপির প্রধান নির্বাহীদের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কিন্তু সোমবার ভোরে আয়োজকদের প্রকাশিত নতুন সূচিতে তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
প্রতি তিন বছর পরপর জ্বালানী নীতি ও শিল্প খাত নিয়ে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সোমবারের অধিবেশন উদ্বোধন করেন সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান। তিনি রিয়াদে আগত অতিথিদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সৌদি আরব তাদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। তবে সম্মেলনে সকলের একত্রিত হওয়া মানে বিপদ কেটে গেছে, এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই।
প্রিন্স আবদুল আজিজ আরও বলেন, গত কয়েক সপ্তাহে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো অত্যন্ত গুরুতর। এসব ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় সৌদি আরবকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে। হামলার ফলে সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’ পরিকল্পনা বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। এই কয়েক শ কোটি ডলারের পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো তেলের ওপর নির্ভরতা কমানো, অর্থনীতিতে নতুন খাত তৈরি করা, সমাজকে আধুনিক করা এবং সৌদি আরবকে বিনিয়োগ ও পর্যটনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।
আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও বড় অনুষ্ঠান আয়োজন এই পরিকল্পনার অন্যতম অগ্রাধিকার। তবে ইতোমধ্যে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে দেরি হয়েছে এবং কিছু উদ্যোগে পরিবর্তন আনতে হয়েছে। প্রিন্স আবদুল আজিজ বলেন, আগামী কয়েক দশকের লক্ষ্য সামনে রেখে সৌদি আরবকে এগিয়ে যেতে হবে। ‘ভিশন ২০৩০’ পরিকল্পনাও অব্যাহত রাখতে হবে।
বিপির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সম্মেলনে অংশ নিতে কোম্পানিটি সব ধরনের চেষ্টা করেছে। তবে যাতায়াতের সমস্যার কারণে সরাসরি উপস্থিত থাকা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, পুরো অঞ্চলে দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বকে বিপি অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। এ বিষয়ে শেলের মন্তব্য পাওয়া যায়নি। রয়টার্সের মন্তব্যের জন্য পাঠানো অনুরোধের তাৎক্ষণিক জবাব দেয়নি টোটালএনার্জিস, এক্সনমোবিল ও শেভরন।
এ সপ্তাহে রিয়াদের একটি সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব জ্বালানি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কেন্দ্রটি রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। গত এক সপ্তাহে বিমানবন্দরটিতে চারবার হামলা হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রবিবার সন্ধ্যায় বিমানবন্দরে নতুন করে হামলায় একজন নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ১২ জন আহত হয়েছেন।
এর আগের দিন, শনিবার, হুতি বিদ্রোহীদের দাবি করা আরেক হামলায় ১৩ জন নিহত হন এবং আহত হন ৩০০ জনের বেশি। গত এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সৌদি আরবে এটিই ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন