প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় রিমান্ড শুনানিতে সাবেক সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে উদ্দেশ্য করে রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী মন্তব্য করেন, ‘সৎ লোকের শাসন চাই’ স্লোগান শোনা গেলেও তিনি রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিয়ে করেছেন। পিপির বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বিচারককে শুধুমাত্র মামলার বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে বলেন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে রিমান্ড শুনানির সময় এই ঘটনা ঘটে। শুনানির শেষে আদালত গাজী নজরুল ইসলামকে চার দিনের এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামসুদ্দোহা সরকার তাদের সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছিলেন।
আরো পড়ুন
ব্যক্তিগত সফরে মালয়েশিয়া গেলেন চিফ হুইপ।
রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করতে গিয়ে পিপি ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, গাজী নজরুল ইসলাম তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে ক্ষমতার প্রভাব ও প্রলোভন দেখিয়ে বিয়েতে বাধ্য করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তাকে বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে নিয়ে যাওয়া এবং ন্যাম ভবনের বাসায় তার প্রথম স্ত্রীর উপস্থিতিতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের প্রকৃত ঘটনা ও নেপথ্যের বিষয় উদঘাটনে নজরুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে তিনি আদালতে জানান।
এদিন দুপুর ৩টা ১১ মিনিটে পুলিশ গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলামকে আদালতে হাজির করে। পরে তাদের পক্ষের আইনজীবীরা ওকালতনামায় স্বাক্ষর করেন। সোয়া ৩টার দিকে বিচারক এজলাসে প্রবেশ করেন এবং আদালতের পরিস্থিতি শান্ত রাখার নির্দেশ দেন। ৩টা ১৬ মিনিটে শুনানি শুরু হয়। শুরুতেই বিচারক তদন্ত কর্মকর্তাকে মামলার অভিযোগ সম্পর্কে জানাতে বলেন।
গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলামের পক্ষে আইনজীবী মো. মাহবুবুর রহমানসহ অন্যান্যরা রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। তারা বলেন, রিমান্ডের কোনো যৌক্তিকতা নেই। গাজী নজরুল একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং চারবারের সংসদ সদস্য। মামলায় তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সুনির্দিষ্ট কারণ উপস্থাপন করা হয়নি। দুজনই বয়স্ক এবং তদন্তে সহযোগিতা করবেন বলেও আদালতকে জানান তারা।
রিমান্ড আবেদনে পুলিশ পাঁচটি কারণ উল্লেখ করে। এতে বলা হয়, ঘটনার সময় আসামিরা বাসায় উপস্থিত ছিলেন কি না এবং মরিয়মের মৃত্যুর পেছনে তাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো ভূমিকা ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার প্রয়োজন।
এছাড়া মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা, উসকানি, মানসিক চাপ বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের ক্ষেত্রে আসামিদের কোনো ভূমিকা ছিল কি না, তা উদঘাটনের জন্য জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। মামলার পলাতক আসামি গাড়িচালক ওবায়দুল ইসলামের ভূমিকা, তার অবস্থান শনাক্ত এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখার কথাও বলা হয়।
আরো পড়ুন
মা হতে চান শ্রুতি, প্রয়োজনে দত্তক নেবেন।
এর আগে মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ শেরেবাংলা নগর থানায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও গাড়িচালক ওবায়দুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত জুনে মরিয়মের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী বিয়ে হয়। নজরুল শেরেবাংলা নগর থানার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউসংলগ্ন ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন। একই ফ্ল্যাটে তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামও ছিলেন।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, বিয়ের পর থেকেই নজরুল ও মাকছুদা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মরিয়মের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। মরিয়ম তার পরিবারের সদস্যদের কাছে এসব বিষয়ে একাধিকবার জানিয়েছিলেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরো পড়ুন
হাম উপসর্গে আরো ৬ শিশুর মৃত্যু
২০ সেপ্টেম্বর বিকেলে গাজী নজরুল ইসলাম ফোন করে মরিয়মের বাবাকে দ্রুত বাসায় আসতে বলেন। পরে পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে পুলিশকে খবর দেন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি হাতে লেখা চিঠি উদ্ধার করেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, গাড়িচালক ওবায়দুল ইসলামের মধ্যস্থতা ও প্ররোচনায় মরিয়মের সঙ্গে গাজী নজরুলের বিয়ে হয়। পরে নজরুল ও মাকছুদার নির্যাতন এবং আসামিদের প্ররোচনার কারণে মরিয়মের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তার পরিবারের সদস্যরা।
সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর মরিয়মের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন