প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর (উপাচার্য) খ্যাতনামা সার্জন ও অধ্যাপক ডা. রফিকুস সালেহীনের নেতৃত্বে দেশে প্রথমবারের মতো সফল রোবোটিকস সার্জারি শুরু হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ‘মেডবট তুমাই এন্ডোস্কোপিক সার্জিক্যাল রোবট’-এর মাধ্যমে অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়।
জানা গেছে, রোবোটিক কোলেসিস্টেকটমি অস্ত্রোপচারে ৫৭ বছর বয়সী এক পুরুষ রোগীর পিত্তথলির পাথর অপসারণ করা হয়। এই পদ্ধতিতে গতানুগতিক পদ্ধতির চেয়ে দ্রুত ও নিখুঁতভাবে সার্জারিটি সম্পন্ন হয়।
অস্ত্রোপচারের পর রোবোটিক সার্জারির সুবিধা তুলে ধরে অধ্যাপক রফিকেস সালেহিন বলেন, রোবটিক আর্ম ৩৬০ ডিগ্রি পর্যন্ত ঘুরতে পারে, যা মানুষের হাতের নড়াচড়ার চেয়ে অনেক বেশি। ফলে শরীরের খুব সংকীর্ণ ও জটিল জায়গাতেও আরও নিখুঁতভাবে কাজ করা সম্ভব হয়। এতে রক্তনালি ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ নিরাপদ রাখা, কম কাটাছেঁড়ায় চিকিৎসা করা, রক্তক্ষরণ কমানো এবং রোগীর দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হয়।
রোবোটিক সার্জারির খরচ সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রচলিত অস্ত্রোপচারের তুলনায় এ পদ্ধতি তুলনামূলক ব্যয়বহুল। খরচ প্রায় দুই থেকে তিন গুণ বেশি হতে পারে।
তবে ভবিষ্যতে রোবোটিক সার্জারির ব্যবহার বাড়লে এর খরচ কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, রোবোটিক সার্জারির নির্ভুলতা ও অন্যান্য সুবিধার কারণে বর্তমানে অনেক রোগী এ ধরনের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যান। এখন থেকে তারা দেশেই এ সেবা পাবেন।
রোবটটি অনেক আগেই দেশে আনা হয়েছিল জানিয়ে অধ্যাপক রফিকুস সালেহীন বলেন, কয়েকজন চিকিৎসক বিদেশ থেকে এর ব্যবহারের ওপর প্রশিক্ষণও নিয়েছেন। তবে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমোদনের কপি আজ দুপুরে আমাদের হাতে পৌঁছায়।
এ বিষয়ে ডা. সালেহিন আরটিভিকে বলেন, আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত যে, আল্লাহর রহমতে দেশে প্রথমবারের মতো সফল রোবোটিকস সার্জারি সফল করতে পেরেছি। বিশ্বের উন্নত দেশগুলো যখন বহু বছর ধরে চিকিৎসাব্যবস্থার এই আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করে আসছে। তখন বাংলাদেশ এক্ষেত্রে পিছিয়ে ছিল। রোবোটিকস সার্জারির মাধ্যমে মানুষের পেটের ভেতরের বিভিন্ন জটিল অপারেশন দ্রুত ও নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের অসংখ্য মানুষ প্রতিবছর এই সার্জারির জন্য দেশের বাইরে যায়। দেশের হাসপাতালগুলোতে এই ব্যবস্থা চালু করা গেলে প্রতিবছর প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে এবং দেশের মানুষের ভোগান্তিও অনেকটা কমবে। যা হতে পারে 'সবার আগে বাংলাদেশ' নীতির অন্যতম স্তম্ভ।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন ডা. সালেহীনের এই সাফল্য বাংলাদেশের চিকিৎসাব্যবস্থায় একটি অন্যতম মাইলফলক।
ডা. সালেহীনের পরিচয়
অধ্যাপক ডা. রফিকুস সালেহীন বর্তমানে রাজধানীর ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কর্মরত আছেন।
তিনি একজন অভিজ্ঞ জেনারেল ও ল্যাপারোস্কোপিক সার্জন। কেএমইউতে ভিসি হিসেবে নিয়োগের আগে তিনি ঢাকার ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
নিয়োগের পর তিনি খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব নেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন