প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বুধবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করতে যাচ্ছেন। এর আগে, নরওয়ের রাজধানী অসলোতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে তিনি আলোচনা করেন। বৈঠকের পর, জেলেনস্কি জানান, রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগাম সতর্কতা দিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউক্রেনের গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় আবার কার্যকর হয়েছে।
মঙ্গলবারের অসলো বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোরে এবং ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে আলোচনায় যুক্ত হন। আলোচনায় ইউক্রেনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা, যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্য কাঠামো নিয়ে আলোচনা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা আলোচনাকে ‘খুবই ফলপ্রসূ ও গঠনমূলক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন ও ইউরোপের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সমন্বয় হয়েছে। ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট স্টাবও আলোচনায় ‘প্রকৃত অগ্রগতি’ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। তবে তিনি সতর্ক করেন যে, শান্তি প্রতিষ্ঠায় ধৈর্য প্রয়োজন।
উইটকফ এবার অসলোতে আলোচিত প্রস্তাবগুলো পুতিনের কাছে তুলে ধরবেন। ইউক্রেন ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা মনে করছেন, এসব প্রস্তাবের বিষয়ে রাশিয়ার অবস্থান এখন স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগের লক্ষ্য রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি ত্রিপক্ষীয় এবং আরও বিস্তৃত বহুপক্ষীয় আলোচনার পথ তৈরি করা।
গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় নিয়ে জেলেনস্কি বলেন, রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগাম সতর্কতা বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমরা কৃতজ্ঞ যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এখন কাজ করছে।’ তাঁর মতে, এ ধরনের সতর্কবার্তা পাওয়া গেলে হামলার আগে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া যায়।
কিয়েভ আগে অভিযোগ করেছিল যে, যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহে সীমাবদ্ধতা তৈরি করেছে। ওয়াশিংটন অবশ্য ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য আটকে রাখার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। জেলেনস্কি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গেও তাঁর আলোচনা হয়েছে, যেখানে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা সরবরাহ এবং ইউক্রেনের সামরিক যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখার বিষয় উঠে আসে।
ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী রুশ লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন অভিযানসহ বিভিন্ন সামরিক কার্যক্রমে স্পেসএক্সের স্যাটেলাইট যোগাযোগব্যবস্থা ব্যবহার করে। সাম্প্রতিক সময়ে এই ব্যবস্থার কিছু সামরিক ব্যবহারে সীমাবদ্ধতার খবর প্রকাশিত হয়েছে। জেলেনস্কি এ বিষয়ে আরও অগ্রগতির আশা প্রকাশ করেছেন। তিনি ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষার জন্য প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন।
এদিকে, যুদ্ধ বন্ধে ইউক্রেনের ওপর চাপ বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ইউক্রেনের যুদ্ধ শেষ করতে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর আগ্রহ থাকতে হবে। তিনি দাবি করেন, রাশিয়াও যুদ্ধের অবসান চায়। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে সম্পর্কের টানাপোড়েন বেড়েছে। রুশ জ্বালানি স্থাপনায় ইউক্রেনের হামলা নিয়েও ট্রাম্প সমালোচনা করেছেন।
ইউরোপীয় নেতারা যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় ইউরোপের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন। নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী স্টোরে বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান নিয়ে যেকোনো আলোচনায় ইউরোপেরও উপস্থিত থাকা প্রয়োজন। ইউক্রেনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের প্রস্তাবও অসলোতে আলোচনার অংশ ছিল।
কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেও ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার কিয়েভ ও আশপাশের এলাকা, পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক এবং মধ্যাঞ্চলীয় দিনিপ্রো শহরে হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হন। বুধবার রাতেও খারকিভের কাছে আরেকটি হামলায় দুজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পুতিনের সঙ্গে উইটকফের প্রস্তাবিত বৈঠক যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় নতুন অগ্রগতি আনে কি না, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন