প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান দেশটির বিরুদ্ধে যেকোনো হামলার ক্ষেত্রে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সৌদি আরব আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর পাশাপাশি কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সৌদি আরবের শুরা কাউন্সিলের নবম অধিবেশনের তৃতীয় বর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব মন্তব্য করেন। খবরটি প্রকাশ করেছে আরব নিউজ।
মোহাম্মদ বিন সালমান বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক হামলাগুলো এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুতর সংকেত।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘নিরাপত্তা রক্ষায় বিন্দুমাত্র আপস না করেই আমরা উত্তেজনা প্রশমন এবং কূটনৈতিক সমাধানের প্রচেষ্টায় সর্বাত্মক ভূমিকা পালন করছি। নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যে কোনো হুমকি বা হামলা হলে কঠোর পদক্ষেপ নিতে আমরা দ্বিধা করব না।’
সৌদি যুবরাজ আরও জানান, আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষা, কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং সমন্বিত কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে সৌদি আরব উপসাগরীয় অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’র বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, এই চুক্তিটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে দেশগুলোর যৌথ প্রচেষ্টার প্রতিফলন।
মোহাম্মদ বিন সালমান আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বিশ্ব বর্তমানে একটি গুরুতর জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি, যার সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে। তিনি জানান, ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ অব্যাহত রাখার মাধ্যমে সৌদি আরব বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা রক্ষায় ভূমিকা রেখে চলেছে।
তিনি আরও জানান, সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার, আন্তর্জাতিক পানিপথে পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা এবং জলপথকে রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করার লক্ষ্যে সৌদি আরব ‘বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট’ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে।
মোহাম্মদ বিন সালমান বলেন, নিরাপত্তা রক্ষা এবং উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে সৌদি আরব তার অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে; পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও মানবিক সহায়তার নিরাপদ প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে।
এ সময় গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান হামলার তীব্র নিন্দা জানান সৌদি যুবরাজ। তিনি বলেন, ‘আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানাই, যেন তারা একটি দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছাতে প্রত্যাশিত ভূমিকা পালন করে।’
তিনি আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনসহ ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকারের প্রতি সৌদি আরবের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
ইয়েমেন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুরো ইয়েমেনে সরকারের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা, স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং ইরান-সমর্থিত হুথি মিলিশিয়াদের মোকাবিলায় ‘কোয়ালিশন টু রিস্টোর লেজিটিমেসি’ জোটের মাধ্যমে ইয়েমেনি সরকারকে সহায়তা করে যাচ্ছে সৌদি আরব।
এ ছাড়া সুদানের ঐক্য ও স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং দেশটির বৈধ প্রতিষ্ঠানগুলোর সুরক্ষার প্রতিও সৌদি আরব সমর্থন অব্যাহত রেখেছে।
তিনি জানান, ২০১৬ সালের তুলনায় তেলবহির্ভূত রপ্তানি ১৫৫ শতাংশ বেড়েছে এবং অর্থনীতিতে বেসরকারি খাতের অবদান বেড়ে ৫১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
২০২৬ সালকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বছর উল্লেখ করে সৌদি যুবরাজ বলেন, সৌদি আরবের লক্ষ্য হলো এআই-ভিত্তিক অ্যাপ্লিকেশন ও সমাধান উদ্ভাবন এবং উৎপাদনশীলতা, সেবার মান ও মেধাবীদের প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে এগুলো ব্যবহার করে বিশ্ব নেতৃত্বের আসনে পৌঁছানো।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন