প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দীর্ঘকাল ধরে ইরান, গাজা, লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে বহুমুখী যুদ্ধ পরিচালনার কারণে ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর সামরিক সরঞ্জাম ও জনবলের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ট্যাংকের অভাব, সেনাদের ছুটি বাতিল করা এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১২টি অ্যাপাচে অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার প্রক্রিয়া আটকে যাওয়ার খবর সাম্প্রতিক সময়ে হিব্রু গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তবে, প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকট বাস্তবতার চেয়ে অস্ত্র সংগ্রহের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ।
ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ এবং দৈনিক মারিভের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, টানা যুদ্ধের ফলে তাদের অনেক ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ক্ষতিগ্রস্ত যানগুলোর মেরামতের জন্য পর্যাপ্ত বাজেট নেই। অন্যদিকে, বাজেটের অভাবে মার্কিন বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে নতুন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার কেনার পরিকল্পনা ব্যাহত হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সামরিক বাজেট বৃদ্ধি নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদের সঙ্গে একমত্যে পৌঁছাতে পারেননি।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক হামজে আত্তার আলজাজিরাকে জানিয়েছেন, ইসরায়েলি বাহিনীতে সত্যিকার অর্থে সংকট তৈরি হওয়া সম্ভব নয়। এই ধরনের খবর গণমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া মূলত ওয়াশিংটন ও ইউরোপ থেকে দ্রুত অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম পাওয়ার জন্য একটি পুরনো কৌশল। অন্যান্য দেশ যেভাবে অস্ত্রের মজুদকে যুদ্ধের জন্য পর্যাপ্ত মনে করে, ইসরায়েল সেটিকে সংকটজনক হিসেবে বিবেচনা করে। কারণ তারা একাধিক ফ্রন্টে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চায়।
তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন বা নীতিগত পরিবর্তনের আগে চুক্তিগুলো দ্রুত নিশ্চিত করাই ইসরায়েলের মূল লক্ষ্য। এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন ইসরায়েলের কাছে ২ হাজার পাউন্ড ওজনের ৬০ হাজারটি দূরপাল্লার বোমা বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে।
অন্যদিকে, পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ইসরায়েলি বাহিনীতে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৫০০ সক্রিয় সেনা এবং ৪ লাখ ১৯৬৫ হাজার রিজার্ভ সেনা ছিল। তবে টানা সংঘাতের কারণে সেনাসংখ্যা বৃদ্ধির তাগিদ দিচ্ছেন সেনাপ্রধান এজাল জামির। তিনি পুরুষদের জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার মেয়াদ ৩৬ মাস করার আহ্বান জানিয়েছেন।
উগ্র অর্থোডক্স (হারেদি) তরুণদের সেনাবাহিনীতে নিয়োগ দিতে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিলেও প্রায় ২৪ হাজার সমনের বিপরীতে মাত্র ১ হাজার ২০০ জন এতে সাড়া দিয়েছেন।
গাজা, লেবানন, ইরান, ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীর এবং সিরিয়ায় চলমান যুদ্ধগুলো পরিচালনার জন্য ইসরায়েলের হাতে যথেষ্ট অস্ত্র রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে নতুন কোনো আঞ্চলিক শক্তির সঙ্গে বড় ধরনের সংঘাতের প্রস্তুতি নিতেই আগাম এসব সরঞ্জাম ও সেনার ঘাটতির বিষয়টি সামনে আনা হচ্ছে তেল আবিবের পক্ষ থেকে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন