প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আজ বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল ৩টায় শুরু হতে যাওয়া এই অধিবেশনে সংসদীয় কমিটি গঠনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।
গণমাধ্যমকে বুধবার (২৬ আগস্ট) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন, বিরোধীদলের সদস্যদের নাম পাওয়ার সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটিগুলো চূড়ান্ত করা হবে। অধিবেশনটি ৫, ৭ অথবা ১০ দিনের সংক্ষিপ্ত অধিবেশন হতে পারে, তবে প্রয়োজন হলে এর মেয়াদ বাড়ানোরও পরিকল্পনা রয়েছে। তৃতীয় অধিবেশনে প্রায় ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিল উত্থাপিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে সম্পত্তি হস্তান্তর, গুম এবং মানবাধিকার সুরক্ষা-সংক্রান্ত বিল।
সম্পত্তি হস্তান্তর-সংক্রান্ত প্রস্তাবিত আইনের বিষয়ে তিনি বলেন, বাবা-মা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দিলেও তারা জীবিত থাকা অবস্থায় ওই সম্পত্তির ভোগদখল ও ব্যবহারের অধিকার বজায় রাখবেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের পর বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানের অবহেলা রোধ করা হবে।
জুলাই সনদ ও সংবিধান সংশোধনের প্রসঙ্গে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, জুলাই সনদের ধারাবাহিকতায় জনগণ নির্বাচনি ইশতেহার দেখে ভোট দিয়েছেন এবং সরকারের প্রতি আস্থা রেখেছেন। সেই আস্থার ভিত্তিতে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। দেশের স্বার্থে নতুন আইন প্রণয়ন এবং বিদ্যমান আইনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার কথা তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, সংবিধানের একটি কমা, দাঁড়ি কিংবা সেমিকোলনের পরিবর্তনও সংবিধান সংস্কারের অংশ। জুলাই সনদে দক্ষিণ প্লাজায় রাজনৈতিক দলগুলো সম্মিলিতভাবে যে অঙ্গীকারে স্বাক্ষর করেছে, তার প্রতিটি বিষয় যথাযথভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে।
এছাড়া, তিনি জানান, সংবিধান সংশোধনের জন্য ১৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। এতে বিএনপি থেকে সাতজন এবং জামায়াত থেকে পাঁচজন সদস্য রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যান্য ছোট দল থেকেও একজন করে সদস্য রাখার প্রস্তাব রয়েছে। বিরোধী দল তাদের সদস্যদের নাম দিলে তাদেরও কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
এদিকে, সংসদের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসন শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সভা-সমাবেশ, মিছিল ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করেছে। অধিবেশন চলাকালে সকলকে নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি বা কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
চিফ হুইপের আশা, তৃতীয় অধিবেশনের মাধ্যমে সংসদীয় কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়ন, সংসদীয় কমিটির কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে জাতীয় সংসদ আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন