প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নেপালে ভয়াবহ বন্যার পর উদ্ধার হওয়া ৬৬৯ মরদেহের মধ্যে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত স্বজনরা মাত্র ২০টি মরদেহ শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। দীর্ঘ দূরত্বে ভেসে যাওয়ার কারণে এবং অনেক মরদেহ খণ্ডিত অবস্থায় উদ্ধার হওয়ায় শনাক্তকাজ অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। হাসপাতালের মর্গ ও অস্থায়ী সংরক্ষণকেন্দ্রগুলোও মরদেহে পূর্ণ হয়ে গেছে।
এ পরিস্থিতিতে কর্তৃপক্ষ অজ্ঞাত মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যার জন্য ডিএনএ ও অন্যান্য ফরেনসিক তথ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে।
নেপাল পুলিশের মুখপাত্র উপমহাপরিদর্শক অভি নারায়ণ কাফলে জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া ৬৬৯ মরদেহের মধ্যে ২১১টি খণ্ডিত বা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া গেছে। অনেক মরদেহ দুই থেকে তিন দিন কাদা ও পানির নিচে থাকার কারণে চোখে দেখে শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
পুলিশ জানায়, মরদেহগুলো পরিষ্কার করে ছবি তোলা হচ্ছে এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে রুপানদেহী, ভৈরহাওয়া, চিতওয়ান ও পোখারা পর্যন্ত দূরবর্তী এলাকায় মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় শনাক্তকাজ আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
নারায়ণী নদীর অববাহিকার বিভিন্ন মর্গ ইতোমধ্যে পূর্ণ হয়ে গেছে। নাওয়ালপরাসি ইস্টে জায়গা সংকটের কারণে ৪১টি মরদেহ কাস্কির পোখারা এবং আটটি পালপায় পাঠানো হয়েছে। আরও কিছু মরদেহ রুপানদেহী ও কাপিলবস্তুর হাসপাতালেও পাঠানো হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মরদেহের সংরক্ষণক্ষমতা শেষ হয়ে গেলে জরুরি ব্যবস্থায় দাফন করা হবে। তবে তার আগে নিখোঁজ ব্যক্তিদের শনাক্তে গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সরকারি বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যাপকভাবে তথ্য প্রকাশ করা হবে।
ফরেনসিক দল আঙুলের ছাপ, চোখের আইরিস, দাঁতের নথি, ফরেনসিক ছবি ও ডিএনএর মাধ্যমে মরদেহ শনাক্তের চেষ্টা করবে। প্রতিটি মরদেহকে একটি স্থায়ী শনাক্তকরণ নম্বর দেওয়া হবে। মরদেহের সঙ্গে পাওয়া গয়না, টাকা, পোশাক, পরিচয়পত্র ও অন্যান্য সামগ্রীও একই নম্বরের অধীনে সংরক্ষণ করা হবে।
যদি পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব না হয় এবং মরদেহ রাখার জায়গা শেষ হয়ে যায়, তাহলে জেলা পর্যায়ের কমিটির অনুমোদনে দাফন করা যাবে। দাফনের পরও প্রতিটি মরদেহের ছবি, ডিএনএ নমুনা, শনাক্তকরণ নম্বর, শারীরিক বিবরণ, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, দাফনের তারিখ ও স্থান সংরক্ষণ করা হবে। পরে যদি কোনো স্বজন নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান পায়, তাহলে এসব তথ্যের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
চিতওয়ানে পরিস্থিতি আরও সংকটপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সেখানে রাশুয়া থেকে বন্যায় ভেসে আসা ২৩৩টি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র চারটি শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। বাকি ২২৯টি মরদেহ হাসপাতাল ও অস্থায়ী সংরক্ষণকেন্দ্রে রয়েছে।
চিতওয়ান জেলা নিরাপত্তা কমিটি দাফনের জন্য ভরতপুর মেট্রোপলিটন সিটির দেবঘাট এলাকায় একটি স্থান নির্ধারণ করেছে। সেখানে নেওয়ার আগে মরদেহগুলোর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে।
একটি অস্থায়ী সংরক্ষণকেন্দ্রে ইতোমধ্যে ৮০টি মরদেহের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব মরদেহই দেবঘাটে দাফনের প্রথম ধাপে নেওয়া হবে।
মরদেহ শনাক্তে ৪০ সদস্যের একটি চিকিৎসক দল কাজ করছে। এই দলে সাতজন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ও সাতজন ডেন্টাল সার্জন রয়েছেন। চিতওয়ানের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল মিলিয়ে একসঙ্গে প্রায় ৫০টি মরদেহ রাখার সক্ষমতা রয়েছে। বিপরীতে সেখানে উদ্ধার হয়েছে ২৩৩টি মরদেহ।
এদিকে রাজধানী কাঠমান্ডুতেও সম্ভাব্য দাফনস্থল খুঁজছে কর্তৃপক্ষ। জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি শনিবার কয়েকটি সম্ভাব্য স্থান চিহ্নিত করেছে। রোববার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে।
সূত্র: দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন