প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদী ও উপকূলীয় জলসীমায় অবৈধ ট্রলিং পদ্ধতিতে মাছ শিকারের কারণে কোটি কোটি মাছের রেণু ও পোনা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। নিষিদ্ধ ও ক্ষতিকর জাল ব্যবহার করে নির্বিচারে মাছ আহরণের ফলে মাছের প্রজনন ও বংশবিস্তারের সুযোগ ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। এর ফলে সামগ্রিক মৎস্যসম্পদে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। অবৈধ ট্রলিং যদি এভাবে চলতে থাকে, তাহলে দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় নদ-নদী ও সাগর মাছশূন্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন মৎস্য খাতসংশ্লিষ্টরা। তাই মৎস্যসম্পদ রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে এ পদ্ধতিতে মাছ ধরা বন্ধের দাবি উঠেছে।
এমন পরিস্থিতির মধ্যে বরগুনার পাথরঘাটায় দুটি অবৈধ আর্টিসানাল ট্রলিং বোটসহ ২১ জেলেকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে বিষখালী নদীর নীলিমা পয়েন্টসংলগ্ন এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বোট দুটি জব্দ করা হয়।
কোস্টগার্ড সূত্রে জানা গেছে, জব্দ করা বোট দুটিতে তল্লাশি চালানোর সময় প্রায় ১৭টি বেহুন্দী জাল, চারটি উইংস, দুটি ডেরিক ও চারটি ট্রলডোর উদ্ধার করা হয়। এ সময় বোটে থাকা ২১ জেলেকে আটক করা হয়। পরে আটক জেলে এবং জব্দ করা বোট, জাল ও ট্রলিং সরঞ্জাম আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাথরঘাটা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মৎস্যসম্পদ রক্ষায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তবে স্থানীয় মৎস্য খাতসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, পাথরঘাটায় দীর্ঘদিন ধরে একটি অসাধু চক্র প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নেতৃত্বে অবৈধ ট্রলিং পদ্ধতিতে মাছ শিকার করে আসছে। তাদের অভিযোগ, মাসুম কোম্পানির নেতৃত্বে পরিচালিত একটি চক্র এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে মাছ আহরণ চলতে থাকায় নদী ও সাগরের মাছের প্রজননক্ষেত্র এবং ছোট মাছের বংশবিস্তার মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী অবৈধ ট্রলিং বন্ধে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। তিনি বলেন, এ ধরনের ক্ষতিকর পদ্ধতিতে মাছ ধরার কারণে শুধু বড় মাছ নয়, বিপুল পরিমাণ রেণু ও পোনা ধ্বংস হচ্ছে। এতে ভবিষ্যতের মাছের মজুত কমে যাচ্ছে। বৈধভাবে মাছ আহরণকারী সাধারণ জেলে ও ট্রলার মালিকরাও এর ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, মৎস্যসম্পদ রক্ষা করতে হলে অবৈধ ট্রলিংয়ের বিরুদ্ধে নিয়মিত ও কার্যকর অভিযান পরিচালনা করতে হবে। শুধু বোট আটক করলেই হবে না, এর পেছনে যারা অর্থ জোগান দেয়, পরিচালনা করে এবং নিষিদ্ধ সরঞ্জাম ব্যবহার করে, তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি নদী ও সাগরে নজরদারি বাড়াতে হবে, যাতে অভিযান শেষ হওয়ার পর আবারও একই কর্মকাণ্ড শুরু না হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অবৈধ ট্রলিংয়ের ক্ষতি তাৎক্ষণিকভাবে দৃশ্যমান না হলেও এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ভয়াবহ। মাছের রেণু ও পোনা ধ্বংস হওয়ার অর্থ হচ্ছে ভবিষ্যতের মাছের উৎপাদন নষ্ট করা। এতে একদিকে যেমন মৎস্যসম্পদের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিঘ্নিত হচ্ছে, অন্যদিকে জীবিকা হারানোর ঝুঁকিতে পড়ছেন উপকূলের হাজার হাজার জেলে পরিবার।
তাদের দাবি, অবৈধ আর্টিসানাল ট্রলিং বোট ও ক্ষতিকর জালের বিরুদ্ধে দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদী এবং উপকূলীয় জলসীমায় সমন্বিত অভিযান চালাতে হবে। একই সঙ্গে অবৈধ ট্রলিংয়ের সঙ্গে জড়িত চক্রের অর্থের উৎস, বোটের মালিকানা ও পরিচালনাকারীদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
মৎস্যসম্পদ রক্ষায় এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে উপকূলীয় অঞ্চলের জেলেদের জীবিকা, দেশের সামুদ্রিক মৎস্য উৎপাদন এবং সামগ্রিক অর্থনীতি বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে। তাই প্রশ্ন শুধু অবৈধ ট্রলিং বন্ধের নয়, বরং দক্ষিণাঞ্চলের মৎস্যসম্পদের অস্তিত্ব রক্ষার।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন